Breaking News

পকেটে মাত্র 250 টাকা থেকে, 500 কোটি টাকার ব্যাবসা, এই মানুষটির অনুপ্রেরণার গল্প আপনাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম করবে, জেনেনিন

আমরা অনেক সময় শুনতে পাই আর্থিক অবস্থা ও কঠিন পরিস্থিতির কারণে অনেকেই নিজের স্বপ্নকে মাঝপথে ছেড়ে দেয়। আবার এমন অনেকেই থাকে যারা সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এমনই একজন ব্যক্তি হলেন বিহারের আরারিয়া জেলার অমিত কুমার দাস। তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় বাধ্য হয়ে শিক্ষা গ্রহণের বদলে মাঠে কাজ করতেন তিনি। অমিত একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

তাই স্কুল পাশ করার পর তিনি পাটনার “এ এন” কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন। কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে সেই পড়া তার মাঝপথেই থেমে যায়। এরপর বাড়ি থেকে মাত্র আড়াইশো টাকা নিয়ে তিনি দিল্লি যান। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার বদলে তিনি কম্পিউটারের কোনো কোর্স করার কথা ভাবেন। দিল্লিতে মাত্র আড়াইশো টাকায় সবরকম খরচ চালানো তার পক্ষে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল। তাই তিনি সেখানে টিউশন পড়ানো শুরু করেন।

টিউশন পড়িয়ে বেশ কিছু টাকা জমলে তিনি দিল্লী ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলার ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একবার কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য অমিত একটি ইন্সটিটিউটে গেছিলেন। কিন্তু সেখানকার রিসিপশনিস্ট তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলায় তিনি কিছু বুঝতে পারেন না। এর ফলে তার এডমিশন হয়না। অমিত তখন সিদ্ধান্ত নেন স্পোকেন ইংলিশ শেখার। এরপর তিনি তিন মাস স্পোকেন ইংলিশ শেখেন এবং আবার সেই কম্পিউটার ইন্সটিটিউটে গিয়ে ভর্তি হন।

অমিতের মেধা দেখে কম্পিউটার ইনস্টিটিউট থেকে তাকে প্রোগ্রামারের চাকরি দেওয়া হয়। যার মাইনে মাত্র 500 টাকা প্রতি মাস ছিল। একটি প্রজেক্ট এর জন্য তাকে ইংল্যান্ড যাওয়ার অফার দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মানা করে দেন। এরপর নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দিল্লিতে নিজের সফটওয়্যার কোম্পানি খোলেন। যার নাম রাখেন “আই সফট”। প্রথম প্রথম তার কোনো প্রজেক্ট আসতো না।

তাই তিনি বাধ্য হয়ে আবার টিউশন পড়ানো শুরু করেন। দিনে তিনি টিউশন পড়াতেন এবং রাতে নিজের কোম্পানিতে কাজ করতেন। তার কাছে ল্যাপটপ না থাকায় তিনি পাবলিক বাসে সিপিইউ নিয়ে যাওয়া-আসা করতেন। এই সময় তিনি “আইআরসিস” নামক সফটওয়্যার ডেভেলপ করেন। এই কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফটওয়্যার ফেয়ারে যাওয়ার সুযোগ পান।

সেখান থেকে ফেরার পর তিনি নিজের কোম্পানিকে সিডনি নিয়ে যান এবং আজ তার কোম্পানি “আই সফ্ট সফটওয়্যার টেকনোলজি” এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। আজ অমিতের এই কোম্পানির টার্নওভার 500 কোটির কাছাকাছি। অমিত দেখিয়ে দিলেন চেষ্টা থাকলে আর্থিক অবস্থা এবং প্রতিকূল পরিবেশ কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আজ অমিত কুমার দাস বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনুপ্রেরণা।

About Web Desk

Check Also

শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান এর সাথে ডেট করেছিলেন জুহি চাওলার মেয়ে, জল্পনা তুঙ্গে, অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী…

শাহরুখ খানকে বলিউডের বাদশা বলা হয় এবং বিখ্যাত অভিনেত্রী জুহি চাওলাও একসময় দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *