Breaking News

দৃষ্টিহীন এই ব্যক্তিকে তার মা বলেছিলেন এমন কিছু করো যাতে লোকে তোমাকে সবাই এক নামে চেনে! আজ তিনি বিশাল কোম্পানির মালিক।

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু কমতি থাকেই। তা বলে সেই কমতিকে নিয়েই শুধু ভাবলে চলবে না। সেই কমতিকে নিজের সবথেকে বড় শক্তি বানিয়ে এগিয়ে যাওয়াই সফল মানুষের লক্ষণ। আজ আমরা এমন একজনের কথা বলবো যে দৃষ্টিহীন হয়েও কোটি টাকার কোম্পানি তৈরি করেছেন এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে রোজগার দিয়েছেন। ভবেশ মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলা সাংঘভি কসবার বাসিন্দা। ভবেশ ছোটো থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন না।

কিন্তু যত তার বয়স বাড়তে শুরু করে ততই চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন হওয়া শুরু করে। এই কারণে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যখন তিনি কুড়ি বছরের হন তখন তার দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি চলে যায়। এসময় থেকে পড়াশোনাতে তার ভীষণ অসুবিধার সৃষ্টি হতে থাকে। তাই তার মা তাকে বই পড়ে শোনাতেন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, সেই সময় তার মা তাকে সাহস জোগানোর কাজ করতেন। দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার পরেও তিনি নিজের শেখার ইচ্ছাকে দমিয়ে দেননি।

তাই তিনি নেশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ব্লাইন্ড ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই তিনি পড়াশুনা ও হাতের কাজ শিখতে থাকেন। সেখান থেকে মোমবাতি তৈরির কাজ শিখে তিনি মোমবাতির ব্যবসা করার কথা ভাবেন। এর জন্য তার কাঁচামালের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু কাঁচামাল কেনার জন্য পর্যাপ্ত টাকা তার কাছে ছিল না। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় তারাও তাকে সাহায্য করতে পারছিলেন না।

তাই তিনি একটি হোটেলে ফিজিওথেরাপীর কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে যা উপার্জন হত তা তিনি জমিয়ে মোমবাতির জন্য কাঁচামাল কেনেন। এরপর থেকে তিনি প্রতিরাতে মোমবাতি তৈরি করে রেখে দিতেন এবং পরের দিন সকালে মহাবালেশ্বর একটি ছোট দোকানে তা বিক্রি করতেন। এরপর তার সাথে নীতা নামের একটি মেয়ের দেখা হয়, যিনি তাকে মার্কেটিং এ সাহায্য করা শুরু করেন। এরপর তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সম্পর্কের রূপ নেয় এবং তারা বিয়ে করে নেন।

তাদের বিয়ের পর ব্যাংক থেকে তারা 15000 টাকার লোন পান। সেই টাকা দিয়ে ভবেশ নিজের মোমবাতির ব্যবসাকে আরো বড় করার কাজে লেগে পড়েন। 1997 সালে তিনি “সানরাইজ ক্যান্ডেলস” নামের একটি কোম্পানি খোলেন। বর্তমানে সেই কোম্পানিতে 2000 মানুষ কর্মরত আছেন এবং বছরে কোম্পানিটির টার্নওভার 30 কোটি। ভবেশ নিজের দুর্বলতা কে শক্তি বানিয়ে উঠে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়ে ছিলেন বলেই তিনি আজ এত বড় ব্যবসার মালিক হতে পেরেছেন।।

About Web Desk

Check Also

দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন ছেলে, বাবার চোখে জল নিয়ে শেষবারের মতো স্যালুট জানালেন ছেলেকে…

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে অবস্থিত ত্রিশূল পর্বতে পর্বতারোহণ অভিযানের সময় নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রজনীকান্ত যাদব একটি হিমবাহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *