Breaking News

কেউ MBA পাস কেউ ইঞ্জিনিয়ার, এই দুইজন মিলে ফুচকার ব্র্যান্ড বানিয়ে ফেলেছেন, বছরে কোটি টাকা ইনকাম

ফুচকার নাম শুনলেই মুখে জল আসে না এমন খুব কম মানুষই আছেন। আপনার শহরে এমন কোনো না কোনো ফুচকার স্টল তো আছেই যেখানে আপনার ফুচকা খেতে সব থেকে বেশি ভালো লাগে। কিন্তু আপনি কি জানেন ফুচকা কে একটা ব্র্যান্ড হিসেবেও পেশ করা হয়েছিল মার্কেটে। আজ আমরা আপনাদের এমন এক দম্পতির কথা বলব যারা ফুচকাকে ব্র্যান্ড হিসেবে মার্কেট এনেছিলেন। এই ব্র্যান্ডের নাম “গপাগপ” যাকে লঞ্চ করেছিল “চটরপটর” কোম্পানি।

2011 সালে মধ্যপ্রদেশের এক ছোটো শহর থেকে শুরু হওয়া এই কোম্পানি আজ 22 টি আলাদা আলাদা শহরে নিজেদের আউটলেট শুরু করেছে। ইন্দোরের প্রশান্ত কুলকার্নি আর আরতি সিরসট কুলকার্নি এই কোম্পানি শুরু করেন। প্রশান্ত একজন এমবিএ আর আরতি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। প্রায় 12 বছর আগে দুজনেই ইনফোসিসে কাজ করতেন। তাদের অভ্যাস ছিল অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় ফুচকা খাওয়া।

এমনই একদিন তারা রাস্তার ধারে ফুচকা খান, কিন্তু সেই ফুচকা খেয়ে প্রশান্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার ফলে ডাক্তার তাকে ফুচকা খেতে মানা করে দেয়। এরপর প্রশান্তের মনে হয় যে কেননা ফুচকা নিয়ে একটা বিজনেস শুরু করা যাক, যেখানে মানুষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে একটা ভালো পরিবেশে ফুচকা খেতে পারবেন। 2011 সালে প্রশান্ত ও আরতি একটি ঠেলাগাড়িতে ফুচকা বিক্রির মধ্যে দিয়ে তাদের এই বিজনেস শুরু করেন।

তারা প্রথম থেকেই চেয়েছিলেন যেভাবে বড় বড় কোম্পানির পিজা-বার্গার প্রতিটা শহরে একই রকম এর স্বাদ দেয় তেমনি তাদের ফুচকাও যেন প্রতিটি জায়গায় সমান মানের স্বাদেরই হয়। প্রশান্ত নিজের জব ছেড়ে দেন কারণ তিনি নিজের পুরোপুরি সময় তার বিজনেস লাগাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আরতি সেই সময় একটি স্কুলে পড়াতেন। সেই স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি তিনি ফুচকার মেনুতেও কাজ করতেন। অনেকে তাদের কে ডিমোটিভেট করেছিলেন কিন্তু তারা হার মানেননি।

প্রথমদিকে তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের জন্য কোনো পাবলিসিটির পেছনে টাকা খরচ করেননি। যারা তাদের কাছে ফুচকা খেতে আসতেন তারাই তাদের পাবলিসিটি করে দিতেন। দেখতে দেখতে একশোর বেশি ফ্লেভারের ফুচকা তাদের মেনুতে যুক্ত হয়ে যায়। একবার এক ব্যক্তি নিজে তাদের কাছে এসে জানান যেন তারা তাকে তাদের ফুচকা বিজনেসের ফিচার করেন। সেই দিন তাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। তারপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন শহরে তাদের এই বিজনেস এস্টাবলিশ হতে থাকে। তারা ফুচকার পাশাপাশি আরো অন্যান্য ধরনের জাঙ্ক ফুড সার্ভ করা শুরু করেন।

তাদের এই বিজনেসের আজ এক কোটির ওপরে টার্নওভার। ভারতের পাশাপাশি তিনি দেশের বাইরেও নিজেদের বিজনেস শুরু করার চেষ্টা করেছেন। আর যারা এই ধরনের বিজনেস শুরু করতে চাইছেন তাদের পথপ্রদর্শক হচ্ছেন। তারা জানান কিছু নতুন শুরু করলে পথে অনেক বাধা আসবে, তা বলে হার মানলে চলবেনা। আপনারা যদি আরও ডিটেইলসে প্রশান্ত আর আরতির এই বিজনেস এর ব্যাপারে জানতে চান তবে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন।।

About Web Desk

Check Also

দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন ছেলে, বাবার চোখে জল নিয়ে শেষবারের মতো স্যালুট জানালেন ছেলেকে…

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে অবস্থিত ত্রিশূল পর্বতে পর্বতারোহণ অভিযানের সময় নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রজনীকান্ত যাদব একটি হিমবাহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *