Breaking News

মাত্র 14 বছর বয়সে, বাবা মাকে হারান, পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সামলিয়েও আজ ইনি আইএএস অফিসার! জেনে নিন তাঁর সাফল্যের কাহিনী

জীবনে উন্নতির জন্য মাথার ওপর বাবা মায়ের আশীর্বাদ হওয়া ভীষণ প্রয়োজন। কিন্তু আজ আমরা আপনাদের এমন একজন আইএএস অফিসারের কথা বলব যিনি ছোটবেলাতেই মা আর বাবা উভয়কে হারান। আইএএস অফিসার গৌরব সিং সগারবাল অনাথ হয়ে যাওয়ার পরেও নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পিছপা হননি। আইএএস অফিসার গৌরব সিং সগারবালের জন্ম রাজস্থানের ভরতপুরের এক কৃষক পরিবারে হয়েছিল। তাঁদের পরিবার পুরোপুরি চাষাবাদের ওপরেই নির্ভর ছিলেন। ছোটবেলাতেই গৌরব তাঁর মাকে হারান।

মাকে হারানোর কষ্ট থেকে গৌরব পুরোপুরি নিজেকে বের করার আগেই বাবাকেও হারান। তাঁর পরিবারে মা-বাবা ছাড়াও দুই বোন আর একটা ছোট ভাই ছিল। বাবা মা চলে যাওয়ার পর সংসারের সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে চলে আসে। পড়াশোনা করার পাশাপাশি তিনি বাচ্চাদের টিউশন পড়াতেন আবার মাঠে কাজও করতেন। তিনি গ্রামের স্কুল থেকে পাশ করে পুনের ভারতীয় বিদ্যাপীঠ নামক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন। গৌরব জানান যেই সময় তাঁর কলেজের বন্ধুরা পার্টি করতেন সেই সময় তিনি পড়াশোনা করতেন।

পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করার জন্য তিনি ভোর পাঁচটায় উঠে বাচ্চাদের টিউশন পড়িয়ে তারপর কলেজ যেতেন। এছাড়াও নিজের ফাঁকা সময়ে তিনি মাঠে চাষ করতেন। তাঁর বাবার ইচ্ছে ছিল তিনি যেন সরকারি অফিসার হন। বাবার এই ইচ্ছে কে সম্মান জানিয়ে তিনি “ইউপিএসসি”র প্রস্তুতি নিতে দিল্লি চলে যান। দিল্লি যাওয়ার পরেও তাঁকে আর্থিক দিক থেকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই তিনি দিল্লীতে একটি আইআইটি কোচিং সেন্টারে পড়ানো শুরু করেন।

এই কোচিং সেন্টারে পড়ানোর পরে যে সময় তিনি ফাঁকা পেতেন সেইসময় তিনি নিজের পড়াশোনা করতেন। কিছু সময় পর কোটার একটি প্রতিষ্ঠিত সেন্টারে তার সিলেকশন হয়ে যায়। সেখান থেকে তিনি বছরে কুড়ি লাখ টাকার প্যাকেজ পেতেন। এরপর তাঁর আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। তিনি তাঁর বোনের বিয়ে দেন এবং ভাইয়ের এমবিএ পড়ার খরচ চালান। আইএএস অফিসার গৌরব সিং সগারবাল পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলেন।

তাই তিনি যে সমস্ত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ পরীক্ষাতেই তিনি সফলতা পাচ্ছিলেন। “ইউপিএসসি” পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তিনি বিএসএফের জন্য এপ্লাই করেন। তাঁর সিলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট রূপে হয়েও যায়। কিন্তু তিনি তাঁর বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য এই চাকরিটি গ্রহণ করেন না। আর নিজের পুরো ফোকাস “ইউপিএসসি” পরীক্ষা প্রস্তুতিতে দেন।

গৌরব “ইউপিএসসি” পরীক্ষায় প্রথম দুবারে সফলতা পাননি। তৃতীয়বার যখন পরীক্ষা দেন তখন তাঁর 99 তম স্থান আসে। গৌরব সহজে হার মানেননি। পরিবারের প্রতি সমস্ত দায়িত্ব সামলিয়েও তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। 2016 সালে “ইউপিএসসি” পরীক্ষায় 49 তম স্থান পেয়ে তিনি টপ করেন। এরপর তাঁর “আইএএস” পদে নিয়োগ হয়ে যায়। গৌরব আজকালকার যুবক-যুবতীদের জন্য প্রেরণা। আর্থিক সমস্যা, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব সব সামলিয়েও তিনি নিজের স্বপ্নকে ছেড়ে দেননি। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি আজ নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।।

About Web Desk

Check Also

25 বছর ধরে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন অক্ষয় কুমার, এবার বেরিয়ে আসলো আসল তথ্য, বিস্তারিত জেনে নিন…

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার চমৎকার অভিনয়ের জন্য পরিচিত। অক্ষয় প্রতিটি চরিত্রে ভালো অভিনয় করে এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *