Breaking News

গরিবদের দেবদূত সনু সুদ…ভালকাজের ফল পাচ্ছেন.. ফিল্মে পাচ্ছে দারুন রোল..জেনেনিন

সোনু সুদের ব্যাপারে কমবেশি তো আমরা সকলেই জানি। মনে পড়ে 2020 সালের কথা! কি ভয়াবহ ছিল সেই বছরটা! কেউ নিজের কাছের মানুষ হারিয়েছিল তো আবার কেউ হারিয়েছিল নিজের কাজ। সব মিলিয়ে বছরটা কারোরই খুব একটা ভালো যায়নি। ক-রো-না-র প্রথম প্রকোপ এই 2020 তেই তো শুরু ভারতবর্ষে। ধীরে ধীরে যা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। ভয় যেন মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছিল। সেই সময় কেউ ভয় পাচ্ছিল যেন কো-রো-না না হয়, আবার কেউ ভয় পাচ্ছিল তার রুজি রোজগার যেন বন্ধ না হয়। সংক্রমনের চেইন ভাঙতে তখন একমাত্র উপায় ছিল লকডাউন।

হঠাৎ সেই লকডাউনের কারণে যারা বাড়ি থেকে বহু কিলোমিটার দূরে নিজের পরিবারকে ভালো রাখার জন্য কাজে গিয়েছিল তারা আটকে পড়ল। প্রথম প্রথম অবশ্য যাদের হয়ে কাজ করছিল তারা তাদের সব দায়িত্ব নিয়েছিল কিন্তু লকডাউন এর মেয়াদ বাড়তে থাকায় তারাও হাত তুলে নেয়। যদিও রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার উভয়ই ফ্রি’তে রেশন এর সুব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিক দের তো রেশন কার্ড নিজের রাজ্যে ছিল তাই তাদের একান্তই প্রয়োজন ছিল নিজের বাড়ি ফিরে যাবার। লকডাউন এর কারণে বাস-ট্রেন সব বন্ধ ছিল। এই সময় তারা ফিরতই বা কিভাবে! সরকার থেকে কোন সাহায্য প্রথম দিকে তারা পাচ্ছিলই না।

পরে অবশ্য শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ও বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিমাণ খুবই কম ছিল। সংক্রমনের ভয়ে যেখানে ভীর এড়ানোর কথা বলা হচ্ছিল সেই সময় শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ও বাসে যাত্রী সংখ্যা দেখে মানুষ রীতিমতো ভয় পেয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় এগিয়ে এলেন সোনু সুদ, ব্যবস্থা করলেন প্লেন, বাস ও ট্রেনের। বহু পরিযায়ী শ্রমিক-কে তাদের বাড়ি পাঠালেন। সরকারের থেকে সাহায্য আসার আগেই সোনু সুদ এর কাছ থেকে সাহায্য পৌঁছে যেত এইসব শ্রমিকদের কাছে। অনেকের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছিলেন তিনি। এছাড়াও বহু মানুষকে তিনি আর্থিকভাবেও সাহায্য করেছিলেন।

অনেকে তাকে ভগবান মানতেও শুরু করে দেয়। এভাবেই 2020 আমরা কাটিয়ে এলাম, ভাবলাম এবার বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। 2020 সালকেই যত দোষ আমরা দিয়েছিলাম। এরপর এল 2021, সবার মনেই নতুন আশা ও নতুন উদ্যম। সবাই প্রায় আমরা ভেবেই নিয়েছিলাম যে এবার বুঝি সব ঠিক হতে চলল। সব ঠিক হয়তো হয়ে যেতো কিন্তু আমাদের মাক্স না পরা, হাতে না ধোঁয়া আর ভীড়ে যাওয়ার অভ্যাস আবার আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেল 2020 তে।

এবার সেই রেশ যেন আরো বেশি ভয়ংকর ছিল। কো-রো-না-র দ্বিতীয় ঢেউ তে মানুষের কি হাহাকার বেড নেই, অক্সিজেন নেই। প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো মানুষের মৃ-ত্যু-র খবর সাধারণ মানুষকে ভেঙে দিচ্ছিল। 2020 র ওই ভয়াবহ সময় কাটিয়ে যারা 2021 এ একটু সোজা হয়ে দাঁড়াতে চাইছিল তাদের শিরদাঁড়া যেন এই দ্বিতীয় ঢেউ এসে ভেঙে দিল। কত জায়গায় শুধু শোনা যাচ্ছিল অক্সিজেনের অভাবে মানুষ হসপিটালের বেডে মারা গেছে, আবার অনেকে তো একটা বেড এর আশায় অ্যাম্বুলেন্সেই নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল।

এতেই শেষ ছিল না শেষকৃত্যের জন্যেও চুল্লীর অভাব পড়ে যাচ্ছিল এই জন্য অনেক জায়গায় তো সেসব মৃ-ত দেহকে গঙ্গাতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই সময় আবার এগিয়ে এলেন সোনু সুদ। প্রাণপণ লড়ে তিনি বেড আর অক্সিজেন জোগাতে নেমে পড়লেন। কিন্তু অনেক সময় তাকেও হতাশা গ্রাস করেছিল। কিন্তু পরের দিন আবার সাধারণ মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন উদ্যমে তাকে লড়াইতে নামতে হচ্ছিল। এই সবের মাঝে এই মা-র-ণ ভা-ই-রা-স তাকেও আক্রমণ করল। কিন্তু তিনি থেমে থাকলেন না। কোয়ারেন্টাইনে থেকেও নিজের ফোনের মাধ্যমে জোগাড় করতে থাকলেন বেড আর অক্সিজেনের।

দ্বিতীয় ঢেউ এর সময় আমরা পর্দার তথাকথিত হিরো হিরোইনদের কে দেখেছিলাম মালদ্বীপ, বালি ও মরিশাসের মত জায়গায় ঘুরতে যেতে। যেই সময় সাধারন মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই করছিল, সেই সময় এই পর্দার তথাকথিত হিরো-হিরোইনেরা এনজয় করছিলো নিজেদের ভ্যাকেশন। সোনু সুদ অর্থাৎ পর্দার ভিলেন চাইলে কিন্তু যেতে পারতেন নিজেও পরিবারসহ একটা ছোট টুরে। কিন্তু তিনি যাননি, তার বিবেকবোধ তাকে যেতে দেয়নি। যেখানে দেশের মানুষ হাহাকার করছে সেখানে তার মত বড় মনের মানুষের দেশের বাইরে ছুটি কাটাতে যাওয়ার শখ জন্মাতে পারেননি।

এক ইন্টারভিউতে তিনি জানান মানুষ বাঁচানোর নেশা তার ক্যারিয়ারকে আরো গ্রোথ দিচ্ছে। তার সমাজসেবা তার পরিবার আর ক্যারিয়ারের পথে বাধা হচ্ছে না বরং তিনি মানুষের সাথে মিশে মানুষের কথা শুনে পরিবারকে আরো বেশি করে সময় দিতে পারছেন। তিনি আরো জানান তার কাছে বেশ কিছু ফিল্মের অফার আসছে, কিন্তু তিনি সব করতে চান না। তিনি জানান যে তিনি বরাবরই সেই সব সিনেমা সিলেক্ট করেন যেগুলোর স্ক্রিপ্ট পড়ে তার মন ছুঁয়ে যায়। সোনু সুদের এইসব কথা শুনে মনে হয় পর্দার তথাকথিত হিরো-হিরোইনের থেকে সোনু সুদ এর মত ভিলেনের আমাদের দেশের ভীষণ প্রয়োজন। তিনি ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন এটাই আমাদের কামনা।।

About Web Desk

Check Also

সৌন্দর্যের দিক থেকে দীপিকা পাডুকোনকে হার মানাবে রণবীর সিং এর বোন।

বিখ্যাত অভিনেতা রণবীর সিং তার ভিন্ন স্টাইল এবং উজ্জ্বল অভিনয়ের জন্য পরিচিত এবং তিনি প্রায়ই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *