Breaking News

ভারতের ফেভিকল ম্যান! সামান্য পিয়ন থেকে এত বড় ব্রান্ড ফেবিকল কোম্পানির ব্যবসায়ী হওয়ার গল্প! জেনে নিন সফলতার কাহিনী

এখন তো ভারতের ঘরে ঘরে ফেবিকল এর নাম খুবই পরিচিত। কোনো কিছু ভেঙে গেলেই আমাদের মনে পড়ে ফেভিকলের কথা। কিন্তু আপনি কি জানেন এই ফেবিকল কে বানিয়েছিল আর কোন পরিস্থিতিতে তাকে এরকম একটি আঠা বানাতে হয়? আজ আমরা আপনাদের বলব ফেভিকলের কথা। ফেবিকল কে ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন বলবন্ত পারেখ, এমন একজন ব্যবসায়ী যিনি স্বাধীনতার পরে ভারতকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

আজ তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক কিন্তু প্রথম থেকেই এমন ছিলনা। বলবন্ত পারেখের জন্ম হয় 1925 সালে গুজরাটের ভাবনগর এর মহুবা গ্রামে। প্রথম থেকেই বলবন্ত পারেখের ব্যবসায়ী হওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তার পরিবার তাকে পড়াশোনা করে উকিল করতে চেয়ে ছিলেন। তিনি তার স্কুল পাশ করে মুম্বাই চলে যান ল-কলেজে পড়ার জন্য। সেখানে তিনি এক সরকারি কলেজে ভর্তি হন। এই সময় পুরো ভারত মহাত্মা গান্ধীর সাথে মিলে স্বাধীনতার লড়াই লড়ছিল।

এই লড়াইতে বলবন্ত পারেখ দেশের যুবক সম্প্রদায় কে মহাত্মা গান্ধীর সাথে যুক্ত করতে চেষ্টা করেন। পরিবারের চাপে পড়ে বলবন্ত পারেখ ল-কলেজের পড়া শেষ তো করে ফেলেন, কিন্তু তিনি ওকালতি করতে চান না। তার মনে মহাত্মা গান্ধীর প্রভাব এতটাই পরে যে তিনি সত্য ও অহিংসার পথে চলার শপথ নেন। তার মতে ওকালতি সত্য ও অহিংসার পথ নয়। ওকালতি এমন এক প্রফেশন যেখানে মিথ্যা বলে, জোর করে নিজের কথা মানানো হয়।

তাই তিনি ভরপুর উৎসাহ নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সব রকমের লড়াইতে যুক্ত হতে থাকেন। তিনি ওকালতি করতে চাননি কিন্তু মুম্বাইয়ের মত শহরে থাকতে গেলে তার যে খরচ তার পক্ষে তা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তিনি এক টাইপিং ও প্রিন্টিং প্রেসের কাজে যুক্ত হন। প্রথম প্রথম অবশ্যই তার এই কাজ ভালো লাগছিলো না। কিন্তু পরিস্থিতির জন্য তাকে এই কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

এক সময় তিনি এই কাজ ছেড়ে দেন এবং এক কাঠের ব্যাপারীর কাছে চাপরাশি পদে নিযুক্ত হন। একজন ওকালতি পাশ করা ব্যক্তির পক্ষে চাপরাশির কাজ করা অতটাও সোজা ছিল না। তাকে এই কাজের জন্য অফিসের গুদামে থাকতে হতো শুধুমাত্র তিনি না তার পাশাপাশি তার সাথে থাকতেন তার স্ত্রীও। এইভাবে তিনি বিভিন্ন রকমের কাজের সাথে যুক্ত হন এবং ব্যবসার রীতিনীতি শিখতে থাকেন।

শুধুমাত্র ব্যবসার রীতিনীতিই তিনি শেখেন না, তিনি অনেক ব্যবসায়ীর সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে থাকেন। এরপর এক ব্যবসায়ীর সাহায্যে তিনি জার্মান এ যান এবং জার্মান থেকে তিনি ব্যবসার অনেক নতুন নতুন তথ্য শিখে আসেন। জার্মান থেকে ফেরার পর তিনি এক নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য পুরোপুরি ভাবে তৈরি ছিলেন। তাই তিনি তার ব্যবসা শুরু করেন। তার ব্যবসা অল্প সময়ে বেশ লাভ দিতে থাকে। তাই তিনি ভাঁড়ার ঘর ছেড়ে নিজের পরিবারকে নিয়ে এক ফ্ল্যাটে ওঠেন। কিন্তু তার আসল লাভ তো তখন হয় যখন ইংরেজ ভারত ছেড়ে চলে যায়।

ইংরেজদের চলে যাওয়ার পর ভারতকে যেভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়, সেই ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অনেক সাহায্য করেন। বলবন্ত পারেখকে ফেভিকল ম্যান নামেও অনেকে চিনে থাকেন। তিনি কেবল মাত্র ফেভিকল নয় ডক্টর ফিক্স-ইট, এম সিল ফেভিকুইক, এর মত আঠা তৈরি করেছেন। কাঠের ব্যবসায়ীর কাছে কাজ করার সময় বলবন্ত পারেখ দেখেন যে কাঠকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার জন্য খুব অসুবিধা হতো। তাই তিনি এমন কিছু বানাতে চান যা খুব সহজভাবেই দুটো কাঠকে একে অপরের সাথে যুক্ত করতে পারে।

এরপর তিনি সিন্থেটিক রসায়নের ব্যবহারে আঠা তৈরি করার কথা ভাবেন। 1959 সালে তিনি তার ভাইয়ের সাথে মিলে পিডিলাইট কোম্পানি শুরু করেন। এই কোম্পানি ভারতীয়দের ফেভিকলের আঠা প্রথমবারের জন্য দেয়। এর আগে পশুদের চর্বি থেকে বানানো আঠা দিয়ে মানুষকে কাজ করতে হতো যা খুবই কষ্টসাধ্য ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। 1997 সালে কোম্পানিটি টপ 15টি বিজনেসের মধ্যে যুক্ত হয়। আর 2004 সালে এই কোম্পানির টার্নওভার হাজার কোটির বেশি হয়ে যায়।

2006 সালে এই কম্পানি আন্তরাষ্ট্রীয় ব্র্যান্ডের সাথে টাইআপ করার কথা ভাবে। এরপর বাংলাদেশ, আমেরিকা, থাইল্যান্ডের মত দেশগুলিতে পিডিলাইট কোম্পানির কারখানা শুরু হয়। বলবন্ত পারেখ ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশ দেখেছিলেন খুবই অল্প বয়সে। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার আগের সময় ও স্বাধীনতার পরের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকার কারণে তিনি শুধুমাত্র একজন ভালো ব্যবসায়ী হননি একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। 2013 সালে ফেভিকল ম্যান মাত্র 88 বছর বয়সে পরকালের পথে যাত্রা করেন।।

About Web Desk

Check Also

চোখে দেখতে পায় না,রেলওয়ে চাকরি দেবেনা বলে না করে দিয়েছিল,আজ নিজের চেষ্টায়, কঠোর পরিশ্রমে ভারতের প্রথম অন্ধ IAS অফিসার…… প্রাঞ্জল

IAS প্রাঞ্জল পাটিল এর success story: চোখ আমাদের শরীরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যে অন্ধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *