Breaking News

হিন্দি মিডিয়াম থেকে পাশ করে পরীক্ষা দিলেন ইংরেজিতে! প্রথমে IPS, তারপর IAS অফিসার হলেন ইনি, দিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

কোন সফল ব্যক্তি যখন সফলতা লাভ করে সে তার পিছনে ছেড়ে যায় সেইসব চিহ্ন যা তাকে সফলতা লাভে সাহায্য করেছে। সেইসব চিহ্ন পরবর্তী সময়ে গিয়ে অন্যান্য দের সাহায্য করতে পারে যারা ওই একই পথে চলে সফলতা লাভ করতে চায়। মধ্যপ্রদেশের এক ছোট জায়গার বাসিন্দা গরিমা অগ্রবাল একবার নয় বরং দুবার সফলতা অর্জন করেছিলেন।

তিনি প্রথমবারের চেষ্টাতেই ইউ পি এস সি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং আইপিএস অফিসার হন। কিন্তু তিনি আইপিএস অফিসার হতে চাননি। তিনি হতে পেরেছিলেন আই এ এস অফিসার। তাই তিনি আইপিএস অফিসারের ট্রেনিং নেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। এরপরে যখন তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় আবার বসেন তখন তিনি পাশ করে আইএএস অফিসার হন।

যদিও তার পাশে তার পরিবার প্রথম থেকেই ছিল। একাগ্রতা, ধৈর্য, পরিশ্রম এসবের মাধ্যমেই তিনি সফলতা লাভ করেন। অনেক সময় শোনা যায় কেউ কেউ বলেন হিন্দি মিডিয়াম থেকে পাশ করে কখনোই সফলতা পাওয়া যায় না। কিন্তু গরিমা সেই সব কথা শোনেননি। তিনি প্রথম থেকেই হিন্দি মিডিয়াম এ নিজের পড়াশোনা করেন।

আজ তিনি সেই সফলতা পেয়েছেন যা ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র ছাত্রীরাও অনেক সময় পেতে পারে না। গরিমা বরাবরই ভাল ছাত্রী ছিলেন। তিনি দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় 92 শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় 89 শতাংশ মার্কস পেয়ে পাশ করেন। বোর্ডের পরীক্ষা তেও তার ভাল ফলাফলের কারণে রোটরি ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ এর অন্তর্গত এক বছরের হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন আমেরিকার মিনিসোটাতে করার সুযোগ পান।

তাকে অবশ্য অশিক্ষিত পরিবেশের মধ্যে বড় হতে হয়নি। তার পরিবারে তার আগে অনেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কারনে তিনি তাদের থেকে মোটিভেশন পান। এক ইন্টারভিউতে গরিমা বলেন যে পরিবার শুধু আমাদের মোটিভেশন দিতে পারবে কিন্তু পড়াশোনা আমাদের নিজেকেই করতে হবে। পরিশ্রম তো আমাদেরই করতে হবে পরিবার শুধু আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে।

গরিমা স্কুল পাশ করার পর জেইই পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষায় পাশ করে তিনি আইআইটি হায়দ্রাবাদ এ ভর্তি হন। হায়দ্রাবাদ থেকে গ্রাজুয়েশন পাশ করার পর তিনি জার্মানিতে ইন্টার্নশিপ করেন। সেখানে তিনি চাকরিও পান কিন্তু, ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে আইএএস অফিসার হওয়ার ইচ্ছার কারণে তিনি সেই চাকরি করতে চান না।

এরপর তিনি দেড় বছর ধরে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রিপারেশন নেন এবং 2017 সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় 241 তম স্থান অর্জন করেন। কিন্তু আইএএস অফিসার হওয়ার ইচ্ছায় তিনি 2018 সালে আবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন এবং সেবার 40 তম স্থান পান। গরিমা হিন্দি মিডিয়ামের ছাত্রী হলেও তিনি পরীক্ষা দেন ইংরেজিতে।

কারণ হিন্দিতে সেইসব মেটেরিয়াল তিনি পাচ্ছিলেন না যেই পরিমান তার প্রয়োজন ছিল। প্রথম প্রথম তার ইংরেজি নিউজ পেপার পড়তে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো সময় লেগে যেত। কিন্তু প্রতিদিনের চেষ্টায় তিনি ইংরেজি আয়ত্ত করতে পারেন। গরিমা জানান উত্তর তো অনেকে লিখতে পারে কিন্তু প্রভাবশালী উত্তর লেখার জন্য প্রয়োজন অনেক প্র্যাকটিসের।

গরিমার সাকসেস এর পেছনে যে টিপস গুলো ছিল তা আজ আমরা আপনাদের জানাবো- ইউপিএসসি পরীক্ষার সময় অনেকেই আপনাদের অনেক বই এর সাজেশন দেবে। কিন্তু আপনারা যদি এত বেশি পরিমাণ বই কেনেন তাহলে আপনারা আপনাদের প্রয়োজনীয় টপিক সেই বইয়ের মধ্যে খুঁজতে খুঁজতে সময় নষ্ট হবে। তার থেকে ভালো আপনারা কিছু লিমিটেড বই কিনবেন।

এই ধরনের বড় পরীক্ষায় গ্রুপ ডিসকাশন খুব ইম্পর্টেন্ট। এতে আপনার self-study এর ধারণাও বাড়ে। যদি আপনি সত্যিই একাগ্রতার সাথে পড়াশোনা করতে চান তাহলে এমন সব জিনিসের থেকে দূরত্ব তৈরি করে ফেলুন যা আপনার মাইন্ড কে ডিস্টার্ব করতে পারে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়া। গরিমা তার এই সাকসেস এর পেছনে শুধুমাত্র তার পরিশ্রমকে নয় তার বাবা-মা কেউ শ্রেয় দিয়েছেন। আজ গরিমা অনেক পরীক্ষার্থীর অনুপ্রেরণা।।

About Web Desk

Check Also

দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন ছেলে, বাবার চোখে জল নিয়ে শেষবারের মতো স্যালুট জানালেন ছেলেকে…

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে অবস্থিত ত্রিশূল পর্বতে পর্বতারোহণ অভিযানের সময় নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রজনীকান্ত যাদব একটি হিমবাহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *