Breaking News

লকডাউনে কাজ নেই, মাথার উপর ঋণের বোঝা, লবণ বিক্রির ব্যবসা শুরু করে মাসে 45000 টাকা আয় করেন এই কিন্নর।

আমাদের সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অন্য দৃষ্টিতে দেখা হয়। তারা তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ার কারণে অনেকেই তাদের সাথে বাজে ব্যবহার করে থাকে। আবার অনেকে ঘৃণাও করে। আবার কিছু নোংরা মানসিকতার মানুষ তাদের নিয়ে মজা করে। যদিও এখন সময় বদলেছে। এখন আর মানুষ আগের মতো তাদের কে ছোট করে না।

তবুও অনেক জায়গায় দেখা যায় তাদের সাথে বর্বোরোচিত ব্যবহার হচ্ছে। সুরাতের বাসিন্দা রাজবি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তিনি আগে পেটস্ শপে কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউন এর কারণে সেই কাজ তার বন্ধ হয়ে যায় তাই তাকে আজ দোকান চালাতে হয়। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ার কারণে রাজবি কেও অনেক বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

কিন্তু তার পরিবার কখনো তার হাত ছাড়ে নি। সব সময় তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। আজ তার এই দোকান থেকে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা ইনকাম হয়। এমনকি তিনি ইংলিশ মিডিয়াম থেকে পড়াশোনা করেছেন। রাজবি তার সম্পর্কে জানান যে তিনি সুরাতের এক জমিদার পরিবারে জন্মেছিলেন।

যদিও তিনি তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তবুও তার মা সব সময় তাকে আগলে রাখতেন। আর এক সন্তানকে যেমন ভালোবাসা দিতে হয় ঠিক তেমনই ভালোবাসা দিতেন। রাজবি আরো বলেন তাকে তার পরিবার ছেলের মতন করেই মানুষ করেছে। সাধারণত তাদের মত মানুষদের বিশেষ সমাজে দিয়ে দেয়া হয় কিন্তু তাঁর পরিবার তা করেনি।

তিনি বলেন অন্যান্য পরিবারও তার পরিবার থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের সন্তানকে নিজের কাছে রেখেই অন্যান্য সন্তানদের মতই মানুষ করতে পারে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে রাজবি একটি পেট শপ খোলেন। সেই দোকান থেকে তার ভালই ইনকাম হয়ে যেত। কিন্তু এই ম-হা-মা-রী-র কারণে তার শপ্ বন্ধ করতে হয়।

আর তার পোষ্যদেরও খাওয়ার অসুবিধা হচ্ছিল। এই সময় তাকে অনেক ধার নিতে হয়। এমন অনেক সময় গেছে যখন তার আ-ত্ম-হ-ত্যা-র কথা মনে আসে। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে না নিয়ে তিনি দোকান খোলেন। আর আজ সেই দোকান থেকে তিনি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা প্রতিদিন ইনকাম করেন। তিনি আরো জানান 18 বছর বয়স থেকে বাচ্চাদের ইংলিশ এর টিউশন পড়াতেন।

তার কাছে পড়তে আসা বাচ্চাদের পরিবার কোনদিন তার সাথে অন্য রকম ব্যবহার করেনি। তিনি বলেন গুজরাটে অনেক কিন্নর সমাজ আছে। এই কারণে তিনি বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু আজ তিনি সেই সমাজের সাথে যুক্ত। সেই সমাজের 95 শতাংশ মানুষই তাকে চেনে আর তাকে অনেক সাপোর্ট করে।

ছোট থেকেই রাজবি-র লালন পালন এক ছেলে সন্তানের মতোই হয়েছে। কিন্তু 32 বছর বয়সে এসে তিনি ছেলেদের পোশাক ত্যাগ করেন। পরিধান করেন এক মেয়ের পোশাক। আর তিনি তার নাম “চিতেয়ু ঠাকুর” থেকে বদলে রাখেন “রাজবি জান”। আজও এমন অনেকেই আছে তার তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ার কারণে তার দোকানে আসতে চান না।

কিন্তু রাজবি আশা করেন একদিন সময় বদলাবে আর প্রত্যেকেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের খুব সহজেই সকলে আপন করে নিতে পারবে। রাজবি তার দোকান শুধুমাত্র নিজের জন্য চালান না। তিনি সমাজকে দেখাতে চান যে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সেই সকল কিছু করতে পারে যা এক পুরুষ বা নারী করতে পারে। আর তৃতীয় লিঙ্গের সন্তানদের দূরে না সরিয়ে অন্যান্য সন্তানের মতো বড় করে তুললে তারাও কোনো অংশে কম হয়না।।

About Web Desk

Check Also

25 বছর ধরে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন অক্ষয় কুমার, এবার বেরিয়ে আসলো আসল তথ্য, বিস্তারিত জেনে নিন…

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার চমৎকার অভিনয়ের জন্য পরিচিত। অক্ষয় প্রতিটি চরিত্রে ভালো অভিনয় করে এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *