Breaking News

এক সময় যে কলেজের দারোয়ান ছিলেন এখন সেই কলেজেরই প্রিন্সিপাল ইনি!

মানুষ যদি একবার কিছু করে দেখাবার দৃঢ় সংকল্প নেয় তবে সে তা করেই দেখায়। এমনই এক ঘটনা হল ঈশ্বর সিং বরগাহ -এর। তিনি পরিস্থিতির সামনে মাথা নত না করে সাহসিকতার সাথে তার মোকাবিলা করেছেন। আজ তিনি বহু মানুষের প্রেরণা। ছত্তিশগড়ের ভিলাই শহরের বাসিন্দা ঈশ্বর সিং বরগাহ বর্তমানে কল্যাণ কলেজের প্রিন্সিপাল।

এক সময়ে এই কলেজেরই মালী ছিলেন তিনি। প্রথম থেকেই তার উচ্চ শিক্ষার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু পারিবারিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। তাই তিনি নিজের পথ নিজেই তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। ঈশ্বর সিং জন্মগ্রহণ করেন বেথলপুরের ঘুটিয়া গ্রামে। সেখান থেকে স্কুলের পড়া শেষ করে মাত্র ১৯ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে ভিলাই তে চলে আসেন।

এখানে তিনি কাপড়ের ফ্যাক্টরিতে মাসিক ১৫০ টাকা বেতনে কাজ পেয়ে যান। উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় তিনি কল্যাণ কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু কাপড়ের ফ্যাক্টরি তে কাজ করে পড়াশোনা করার অসুবিধা হওয়ায় তিনি কলেজেই মালীর কাজ শুরু করেন।
এরপর কখনও তিনি দারোয়ানের কাজ করতেন তো কখনও সুপারভাইজার -এর।

এইভাবেই তিনি ১৯৮৯ সালে গ্র্যাজুয়েশন পাশ করেন। এই সময়ে তাঁকে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ও এইচওডি ভীষণ ভাবে সহায়তা করেন। বি.এ এর পড়া চলাকালীন তিনি দু-বার প্রি বি.এড -এ চান্স পান। কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে ভর্তি হতে পারেন না। এরপর তিনি দারোয়ানের চাকরি নেন ও বি.এড -এ ভর্তি হয়ে যান।

গ্র্যাজুয়েশন পাশ করার সাথে সাথেই কল্যাণ কলেজে ক্রাফট টিচারের পদে নিয়োগ হয়ে যান। ঈশ্বর সিং এর নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর বাচ্চাদের পড়ানোর ইচ্ছে দেখে কল্যাণ কলেজের সঞ্চালন সমিতি ২০০৫ সালে ছত্তিশগড় কল্যাণ মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল পদে নিযুক্ত করেন। ঈশ্বর সিং এর কাহিনি বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের প্রেরণা জোগাতে সক্ষম।।

About Web Desk

Check Also

“পুষ্পা” ফিল্মের রক্ত চন্দন এর দাম জানেন কত? বিলুপ্ত এই চন্দন কীভাবে এল ফিল্মের সেটে? জানলে আপনিও চমকে যাবেন

সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে আল্লু আর্জুনের ফিল্ম “পুষ্পা”। এই ফিল্ম রক্ত চন্দনের কাঠ নিয়ে তৈরি। আজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.