Breaking News

একসময় নর্দমার জল খেয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে, আজ দেশের ফেমাস নিউরো সার্জেন, এখন প্রাইভেট প্লেনে যাতায়াত করেন

দারিদ্র্য কী সেটা সে-ই ব্যক্তি ভালো বলতে পারবে যাকে তৃষ্ণা মেটাতে ড্রেনের জল খেতে হয়েছে। জীবনে সফলতা পেতে কেউ পরিশ্রম আর সততার পথ বেছে নেয় আবার সেখানেই কেউ বেছে নেয় বেইমানি আর শঠতার পথ। আপনি কোনো ডাক্তার বা উচ্চপদস্থ কোনো কর্মীকে দেখলে হয়তো ভাবেন যে তাঁরা ছোটো থেকেই সকল সুখ-সুবিধা পেয়ে বড় হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবার এই ধারণা ঠিক নাও হতে পারে।

আপনাদের এমনই এক প্রসিদ্ধ নিউরোসার্জেন -এর কথা বলব একসময় যার কাছে পর্যাপ্ত জামা-কাপড় পর্যন্ত ছিল না। তিনি হলেন ডাঃ কুমার বহুলেয়ান। কেরলের কোট্টায়াম জেলার এক ছোটো গ্রামে কুমার বহুলেয়ান জন্ম গ্রহণ করেন। ডাঃ কুমার এর জন্ম এক হরিজন পরিবারে হয়। তাঁর বাবা যেদিন কাজ পেতেন সেদিন তাঁদের একবেলার রুটি কোনোরকমে জোগাড় হত।

কাজ না পেলে দিনের পর দিন তাঁদের না খেয়েই কাটিয়ে দিতে হত। তাঁদের গ্রামে না ছিল বিদ্যুত পরিষেবা, না ছিল বিদ্যালয় আর না ছিল হাসপাতাল। ডাঃ কুমার সহ সকল গ্রামবাসীদের অবস্থা এমন ছিল যে পরিশুদ্ধ পানীয় জলও তাঁদের ছিল না। খালি পেট থাকার কারণে আর নোংরা জল খাওয়ার কারণে কুমার বহুলেয়ান -এর তিন ভাই-বোন মারা যায়।

তাঁদের গ্রামের অবস্থা এমন ছিল যে প্রায়শই কেউ না কেউ টাইফয়েড, আমাশয়, কলেরা ইত্যাদি রোগে ভুগে মারা যেত। কুমার বহুলেয়ান -এর পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক দেখে তাঁর বাবা এক শিক্ষককে তাঁকে পড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। এরপর সেই শিক্ষকের মার্গ দর্শনে ডাঃ কুমার পড়াশোনায় আরও ভালো হতে থাকেন।

প্রয়োজনে সেই শিক্ষক তাঁকে আর্থিক সাহায্যও করতেন। নিজের পরিশ্রম আর শিক্ষকের মার্গ দর্শনের ফলে কুমার বহুলেয়ান ইসাই মিশনারির মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে যান। কলেজ থেকে ভালো ভাবে পাশ করার কারণে তাঁকে সরকারের পক্ষ থেকে স্কটল্যান্ড পাঠানো হয় নিউরোসার্জেন এর পড়াশোনার জন্য।

এরপর তিনি পড়া শেষে দেশে ফিরে আসলেও চাকরি পান না। কারণ সেই সময় ভারতে নিউরোসার্জিকল এর ক্ষেত্র সীমিত ছিল। ভারতে চাকরি না পাওয়ায় তিনি কানাডায় নিউরোসার্জেন রূপে কাজ করেন। এরপর তিনি চলে যান নিউইয়র্ক এবং আলবেনি মেডিকেল কলেজে কাজ করতে থাকেন। এই সময় থেকেই তাঁর কেরিয়ারের শুরু হয়।

১৯৭৩ সালে বিখ্যাত বাফেলো ইউনিভার্সিটিতে এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে যুক্ত হন। এরপর তিনি তাঁর গ্রামে ফিরে যান। ফিরে দেখেন তাঁর গ্রামের স্থিতি একটুও বদলায়নি। তিনি নিজের জন্মস্থানের স্থিতি বদলানোর সংকল্প নেন। ১৯৯৩ সালে তিনি শুরু করেন বহুলেয়ন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন -এর। সেখানে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসার সকল সুবিধা ছিল।

২০০৭ সালে তিনি তাঁর গ্রামের উন্নতির জন্য ১৩০ কোটি টাকা দান করেন। সেই টাকার থেকে তাঁর গ্রামের চিকিৎসা পরিষেবা, শিক্ষা, সড়ক পরিবহন গড়ে তোলা হয়। বহুলেয়ন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন -এর স্থিতি ভালো করতে তিনি শুরু করেন স্বাস্থ্য স্পা, ব্যায়ামশালা -র মতো সুবিধাজনক আশ্রয়।

যার কারণে আজ তাঁর গ্রামের অবস্থা উন্নতি হচ্ছে। ২০ বছর বয়সে যেই যুবক প্রথম জুতো পরেন সেই যুবক তাঁর গ্রামের উন্নতির অন্যতম কারণ। আজ ডাঃ কুমার বহুলেয়ান -এর লাইফস্টাইল দেখে কেউ আন্দাজও করতে পারবে না তাঁকে একটা সময় কতটা কষ্টের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর কাছে নিজস্ব জেটও আছে।।

About Web Desk

Check Also

দিব্যা ভারতীর জীবনে ছিল অনেক গোপন কাহিনী, জেনেনিন কি হয়েছিল 5 এপ্রিল 1993 এর রাতে

অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর নাম শুনলেই এক মিষ্টি মুখের মেয়ের কথা মনে পড়ে। খুব অল্প বয়সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *