Breaking News

মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে দিনমজুরি করা এই ব্যক্তি আজ কোটিপতি। কীভাবে হলেন তিনি সফল? জেনে নিন সফলতার তার কাহিনী

কখনও কখনও জীবন আমাদের এমন কোনো রাস্তায় নিয়ে আসে যেখান থেকে এগিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টের হয়। কেউ কেউ হার মেনে নেয় আবার কেউ কেউ কঠিন রাস্তা পেরিয়ে জিতে যায়। এমনই একজন হলেন ভানবার লাল আর্য। যাঁর কাহিনি আমাদের অনেককেই প্রেরণা জোগাতে পারে।

তো আসুন জেনে নিই কে এই ভানবার লাল আর্য- রাজস্থানের বাসিন্দা ভানবার লাল আর্য আজ এক আরামদায়ক জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর জীবন প্রথম থেকেই এমন ছিল না। তাঁকে জীবনে অনেক সংঘর্ষ করে এগোতে হয়েছে। জীবনের একটা সময়ে খাওয়ার জন্য ঘরে রেশন পর্যন্ত তাঁদের ছিল না।

তাঁকে অল্পবয়সে দিনমজুরি পর্যন্ত করতে হয়েছে। ভনবার লালের জন্ম ১৯৬৯ সালে হয়। সেই ছোটো বয়সেই তিনি দারিদ্র্য সম্পর্কে বুঝে গেছিলেন। জলের জন্যেও তাঁর বাবাকে ৬-৭ কিলোমিটার রোজ যেতে হত। কিন্তু ভানবার লালের বাবা-মা চাননি যেই কষ্ট তাঁদের সহ্য করতে হয়, সেই একই কষ্টের মধ্যে দিয়ে তিনিও যান।

তাই তাঁকে তাঁর দিদার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। যখন তিনি বোঝেন তাঁর পরিবারের অবস্থা, তখনই তিনি কাজের খোঁজ শুরু করে দেন। তিনি রাজস্থানের বিভিন্ন জেলায় প্রথমে কাজ করতে শুরু করেন এরপর তিনি কোলকাতা, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর এর মতো বড়ো শহরে দিনমজুরি করতে থাকেন।

এরপর তিনি চেন্নাই যান এবং সেখানে একজন শেঠ -এর দোকানে কাজ করতে শুরু করেন। প্রথমে সেই শেঠ তাঁকে থাকার জায়গা আর খাবার দিতেন। পরে তাঁর কাজে খুশি হয়ে মাসে ৫০ টাকা মাইনে দেওয়া শুরু করেন। সেই দোকানে কাজ করতে করতে তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। সেই দোকানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের লোকেরা আসতেন।

তাঁদের সাথে ভানবার লালের বেশ ভালো চেনা-জানা হয়ে যায়। তাই তিনি একবার সেই সংঘে যেতে চান। এই কারণে তিনি ২২ দিনের ছুটি চান তাঁর মালিকের কাছে। কিন্তু সে সেই ছুটি না দেওয়ায় ভানবার লাল কাজ ছেড়ে দেন। এরপর তিনি সেই সংঘের সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন।

যার ফলে তাঁর অনেকের সাথে আলাপ হয়। তিনি একদিন ঠিক করেন নিজের ব্যবসা শুরু করবেন। এরপর তিনি মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জামা-কাপড়ের দোকান খোলেন। নিজের পরিশ্রমে তিনি সেই ব্যবসায় সফল হন। এরপর তিনি আর একটি দোকান খোলেন এবং ভাই এর সাথে তা চালাতে থাকেন। এবার তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘোরে।

খুব তাড়াতাড়িই তাঁর নাম কোটিপতি বিজনেসম্যানদের সাথে নেওয়া হতে থাকে। এর কারণে তাঁকে ব্যাপারি সংঘের অধ্যক্ষ করা হয়। ১২ বছর বয়স থেকে রোজগার শুরু করা ভানবার লাল আর্যের ক্রোনিক আস্থামা হয়। বহু চিকিৎসার পরও কোনো ভালো লক্ষণ দেখা যায় না। এরপর তিনি যোগব্যায়াম শুরু করেন। রোজ ব্যায়াম করার ফলে তাঁর শরীরে ভালো প্রভাব পরতে থাকে।

এমন হয় যে যোগব্যায়াম তাঁর জীবনের সাথে জড়িয়ে যায়। ভানবার লাল আর্য নিজের ছোটো ভাইয়ের সাথে মিলে যেই জনতা টেক্সটাইল খুলেছিলেন বর্তমানে তাঁর বাৎসরিক টার্নওভার ১০০ কোটির বেশি। তিনি না শুধু নিজের পরিবারকে সুখের জীবন দিতে সমর্থ হয়েছেন পাশাপাশি তাঁর ছোটো ভাই ও তাঁর পরিবারকেও সুখের মুখ দেখিয়েছেন। ভানবার লাল আর্যের কাহিনি এমন অনেক মানুষের অনুপ্রেরণা যাঁরা দারিদ্র্যের কাছে হার মেনে নিতে চায়।।

About Web Desk

Check Also

25 বছর ধরে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন অক্ষয় কুমার, এবার বেরিয়ে আসলো আসল তথ্য, বিস্তারিত জেনে নিন…

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার চমৎকার অভিনয়ের জন্য পরিচিত। অক্ষয় প্রতিটি চরিত্রে ভালো অভিনয় করে এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *