Breaking News

গরীব বাবা সামান্য NGO তে কাজ করে মেয়ে কে পড়াশুনা শেখান, বন্ধুদের থেকে ইন্টারভিউয়ের জন্যে টাকা ধার নিয়ে আজ মেয়েটা IAS অফিসার

প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশের একটি কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করে কিন্তু খুব কম সংখ্যক পরীক্ষার্থীরা এতে সফল হয়। আজ আমরা আপনাকে শ্রীধন্যা সুরেশ সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি যিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত শ্রীধন্যা তার সম্প্রদায়ের প্রথম আইএএস কর্মকর্তা।

শুধু তাই নয় ইউপিএসসি তে তিনি 410 তম স্থান অর্জন করেছেন। শ্রীধন্যা কেরালার ওয়ায়নাড জেলার বাসিন্দা। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের কুড়িচিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তার বাবা মনরেগায় কাজ করতেন। সেখানকার মজুরির পাশাপাশি তার বাবা তীর এবং ধনুক বিক্রি করতেন।

কোনরকমে তাদের দিন চলত। তারা সরকারি জমিতে একটি বাড়ি পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি, এর থেকে আপনি বুঝতে পারছেন তাদের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল। এই আর্থিক সংকট তার ইউ পি এস সির পড়াশোনা কেও প্রভাবিত করে। শ্রীধন্যা কোজিকোডের সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেছেন।

এখানে তিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি সেই কলেজ থেকেই স্নাতক শেষ করেছেন। এর পরে তিনি এই কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেছেন। তার ছোটবেলা থেকেই আইএস হওয়ার স্বপ্ন ছিল এই কারণেই দ্বাদশ শ্রেণীর পরে তিনি আইএসএস জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। তিনি তার বাড়িতে দিনরাত পড়াশোনা করতেন।

সে প্রথমে উপজাতি কল্যাণে পরিচালিত কোচিং এ ইউপিএসসি প্রস্তুতির জন্য পড়াশোনা করেছিলেন। তারপরে তিনি তিরুবনন্তপুরম এ যান। এখানে তিনি ইউপিএস এর জন্য আরও প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছিল যে তাকে তপশিলি উপজাতি বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল যার সাহায্যে তিনি তার ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সে ইন্টারভিউতে যেতে পারছিলেন না। মেন পরীক্ষার পরে যখন তাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য দিল্লি যেতে হয়েছিল তখন তিনি তার বন্ধুদের সহায়তায় কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তারপর দিল্লিতে গেছিলেন এবং সেখানে সাফল্য পেয়েছিলেন। 40 হাজার টাকা অনুদান এর মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিল যাতে সে দিল্লিতে যেতে পারে।

সে এমনি এমনি সাফল্যটি পায়নি, তার কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গতা তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি পরপর তিনবার পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন এবং অবশেষে চতুর্থবারের পরে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যখন তিনি 2018 সালের ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তখন তার ফলাফল আসে 2019 সালে এবং এই পরীক্ষায় সাফল্য পায় সে।

তার ফলাফল দেখে আনন্দে তার চোখে জল চলে আসে। তার পরীক্ষার ফলাফলে শুধু তার পরিবার এই নয় পুরো গ্রাম খুশি ছিল। ইউপিএসসিতে তিনি 410 তম স্থান অর্জন করেছেন এবং আইএস হওয়ার তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করেছেন। শ্রীধন্যা সেই যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা যারা দারিদ্র্যে বা কঠিন পরিস্থিতিতে আপোষ করে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়।।

About Web Desk

Check Also

দিব্যা ভারতীর জীবনে ছিল অনেক গোপন কাহিনী, জেনেনিন কি হয়েছিল 5 এপ্রিল 1993 এর রাতে

অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর নাম শুনলেই এক মিষ্টি মুখের মেয়ের কথা মনে পড়ে। খুব অল্প বয়সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *