Breaking News

কানপুরের স্থানীয় একটি ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড যা দুই ভাইয়ের কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, জেনে নিন সফলতার গল্প

ঘড়ি ডিটারজেন্ট এর ট্যাগ লাইন টা হয়তো সকলেই জানেন….”প্রথমে ব্যবহার করুন তারপরে বিশ্বাস করুন।” প্রতিটি বাচ্চা থেকে বয়স্কদের মুখে এই লাইনটি শোনা যায়। এই ডিটারজেন্টটি লোকেরা খুব পছন্দ করেন। ঘড়ি ডিটারজেন্ট বেশ কয়েক দশক আগে ভারতের বাজারে অবতরণ করেছিল। এ সংস্থার মতে যারা এই ঘড়ি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করছেন তাদের বিশ্বাস এখন অব্দি অটুট রয়েছে।

আসুন আমরা আজ আপনাদেরকে ঘড়ি ডিটারজেন্ট এর উৎস এবং বাজারে এটির উপস্থিতির গল্পটি বলি। কানপুরের বাসিন্দা মুরলী বাবু এবং বিমল জ্ঞান চন্দনী নামের দুই ভাই একসাথে এই ঘড়ি ডিটারজেন্ট তৈরি শুরু করেছিলেন। তাদের জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কানপুরের শাস্ত্রী নগর থেকে। তিনি প্রথমে ফজল গঞ্জ ফায়ার স্টেশনের কাছে নিজের ডিটারজেন্ট কারখানাটি চালু করেন।

ডিটারজেন্ট কারখানাটি সেই সময় ছোট ছিল কিন্তু তারা দুজনেই তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং সাহসের জোরে এই সংস্থাটি কে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই সময় তিনি শহরে যেই ডিটারজেন্ট কারখানাটি খোলেন তার নাম ছিল শ্রী মহাদেব সাবান শিল্প তবে এই কারখানা টা বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেনি। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্য অব্যাহত রেখেছিল এবং তারপরে উত্তর প্রদেশ তারা তাদের ডিটারজেন্টের ব্র্যান্ডিং তীব্র করে তোলে।

সে সময় তাদের ব্র্যান্ড ঘড়ি ডিটারজেন্ট এর সামনে অনেকগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল এরমধ্যে নির্মাণ এবং হুইলের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন ব্র্যান্ডের সামনে আসা খুব কঠিন হয়ে গেছিল। কিন্তু দুই ভাই তাদের ব্র্যান্ডটি জনগণের কাছে ভিন্ন উপায়ে নিয়ে আসে। সেই সময় বেশিরভাগ ডিটারজেন্ট গুলি হলুদ বা নীল রঙে তৈরি করা হতো তবে তারা সাদা রঙের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্ট তৈরি করেছিল।

ঘড়ি ডিটারজেন্ট এর বিশেষত্ব ছিল এর মান ভালো ছিল এবং দামও কম ছিল এবং সর্বাধিক অন্যন্য ছিল এর ট্যাগ লাইন-প্রথমে ব্যবহার করুন তারপর বিশ্বাস করুন। এইই ট্যাগ লাইনের সাথে বাজারে আসার সময়ে ডিটারজেন্ট খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়। তারপরে তারা উত্তরপ্রদেশের বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করে ফেলে এবং অন্যান্য রাজ্য এটি প্রচার করে। তারপর দুই ভাই বিক্রেতাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য এবং তাদের উৎসাহিত করার জন্য কমিশন দেওয়া শুরু করে।

যার ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই ঘড়ি ডিটারজেন্ট মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে একটি প্রিয় ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে।
তারপর ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি পরিবার ঘড়ি ডিটারজেন্ট কে বিশ্বাস করে এবং এটি কিনতে থাকে। 2005 সালে এই সংস্থাটির নাম আরএসপিএল এ পরিবর্তন করা হয়েছে। এবং এখন এটির নাম পুরো বিশ্বের বৃহত্তম ব্র্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত। এই দুই ভাই যিনি একসময় একটি ছোট কারখানা থেকে শুরু করেছিলেন,

বর্তমানে তারা 12 হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তির মালিক। বহু বছর ধরে এই ব্র্যান্ড জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ডিটারজেন্ট সরবরাহ করে চলেছে এবং এই কারণে লোকেরা এখনো এটিকে এত ভালবাসে। মুরলী বাবু এবং বিমল জ্ঞান চন্দনের সাফল্যের কাহিনী থেকে প্রমাণিত হয় যে কোন কাজ যখন ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সঠিকভাবে করা হয় তখন মানুষ অবশ্যই এতে সফলতা অর্জন করে।।

About Web Desk

Check Also

শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান এর সাথে ডেট করেছিলেন জুহি চাওলার মেয়ে, জল্পনা তুঙ্গে, অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী…

শাহরুখ খানকে বলিউডের বাদশা বলা হয় এবং বিখ্যাত অভিনেত্রী জুহি চাওলাও একসময় দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *