Breaking News

বাবা চা বিক্রি করে আর মা পানের দোকান চালিয়ে, ছেলেকে কানপুর আইআইটিতে ভর্তি করলেন।

কঠোর পরিশ্রমী প্রতিটি ব্যক্তিই সাফল্য পেতে সক্ষম। যদি আপনার দক্ষতা থাকে তবে পরিবারের অবস্থা সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। মেধাবীরা তার কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সাফল্য অর্জন করে। আজ আমরা আপনাদেরকে আনমল আহিরওয়ারের গল্প বলব, যিনি তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার পরও আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন।

তার সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ তিনি বস্তিতে এবং কখনও কখনও ক্ষুধার্ত পেটে থাকতেন। এরপরও তিনি পড়াশোনা করতে থাকলেন এবং সাফল্য অর্জন করলেন। আনমল আহিরওয়ারের বাবা-মা চায়ের স্টল চালিয়ে সংসার চালাতেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, আনমল পড়াশোনার জন্য কোনও কোচিংয়ের সহায়তা নেননি।

তিনি অনলাইনে পড়াশোনা করে আইআইটি তে ভর্তি হয়েছিলেন। ভোপালের অন্যতম ব্যয়বহুল অঞ্চলে বসবাসরত আনমলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি তাঁর পরিবারের সাথে একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে থাকতেন। তিনি বলেছিলেন যে, তার বাবা একটি চায়ের দোকান চালাতেন এবং তার মা সংসার চালাতে একটি পানের দোকান চালাতেন।

চায়ের দোকান এবং পানের দোকান থেকে তাদের প্রতি মাসে প্রায় 6,000 টাকা আয় হত। এই টাকায় তার আইআইটির কোচিংয়ের ব্যয় মেটানো খুব কঠিন ছিল। এই কারনেই আনমল কেবল অনলাইনে তার পড়াশোনা করেছিলেন। আনমল শৈশব থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। এ কারনে তার বাবা-মা তাকে কখনোই পড়াশোনা ছাড়তে বলেননি।

পড়াশোনায় ভালো হওয়ার জন্য আনমল কে কখনো চায়ের দোকান বা পানের দোকানে বসতে হয়নি। আনমল বলেছেন যে, তিনি যখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন তখন তিনি আইআইটি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। একাদশ শ্রেণিতে আসার পর তার শিক্ষকরা তাকে আইআইটি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এরপর আনমল তার কঠোর পরিশ্রমের জোরেই 2020 সালে, কানপুর আইআইটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হন। আনমল প্রথম থেকেই পড়াশোনায় অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় অনেক মেধাবী ছিল। তিনি দশম শ্রেণীতে 87 শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে 89 শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন।

আনমল তার প্রাথমিক পড়াশোনা ভোপালের স্কুল সুভাষ এক্সেলেন্স থেকেই শেষ করেছিলেন। এরপরে আনমল আইআইটি ফর্ম পূরণ করে অনলাইনে ক্লাস করা শুরু করেছিলেন, এবং আইআইটি ফলাফল আসার সাথে সাথেই তিনি নিজের সাফল্যের পতাকা তুলে ধরেছিলেন। আনমলের বাবা তার সাফল্যের জন্য খুব খুশি হয়েছিলেন।

আনমলের পড়াশোনা করার সময় তার বাবা-মাকেও খুব লড়াই করতে হয়েছিল। আনমলের বাবা-মা নিরক্ষর ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও, তিনি তার পুত্রকে শিক্ষিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। আনমল বলেছেন যে, বাবা-মায়ের লড়াইয়ের কারনেই সে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

পড়াশোনার সময় বাবা-মা তাকে কখনো কাজের জন্য বলেননি। 10 থেকে 12 ঘন্টা অধ্যয়ন করার পর আনমল নিজেই তার বাবা-মাকে সাহায্য করতে যেত। বড় হয়ে তিনি IAS অফিসার হতে চান। আনমলের এই সাফল্য সেই সমস্ত পড়ুয়াদের কাছে একটি উদাহরণ, যারা পরিস্থিতির কাছে হার মেনে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।।

About Web Desk

Check Also

চোখে দেখতে পায় না,রেলওয়ে চাকরি দেবেনা বলে না করে দিয়েছিল,আজ নিজের চেষ্টায়, কঠোর পরিশ্রমে ভারতের প্রথম অন্ধ IAS অফিসার…… প্রাঞ্জল

IAS প্রাঞ্জল পাটিল এর success story: চোখ আমাদের শরীরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যে অন্ধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *