Breaking News

“আপনার ছেলে কানে শুনতে পায় না কিভাবে পিয়ন হবে”? এই বলে অফিসার বাবাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ছেলে IAS অফিসার হয়ে বাবার সম্মান ফিরিয়ে দিল।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। বিশেষত যখন জীবনে সাফল্য আসে, তার আগে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য জীবন আরও চ্যালেঞ্জের হয়ে ওঠে। তবে আপনার যদি সাফল্য অর্জনের সত্যিকারের ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই সফলতা পাবেন।

আজ আমরা আপনাদেরকে এমন একজন বধির ব্যক্তির কথা বলব যার বাবা ছিলেন একজন শ্রমজীবী এবং মা ছিল অন্ধ। তা সত্বেও, তিনি তার শারীরিক ত্রুটিগুলিকে উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমের পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে লড়াই করে সাফল্য অর্জন করেছিলেন এবং তার IAS অফিসার হওয়ার স্বপ্নও পূরণ করেছিলেন।

আমরা এখন যার কথা বলছি, তিনি হলেন মনীরাম শর্মা। তিনি 1975 সালে রাজস্থানের আলওয়ার জেলার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং তার পরিবারের সংগ্রাম কেবল দারিদ্র্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরিবারের দুজন ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সমস্যায় ভুগছিলেন।

মনীরামের মা অন্ধ ছিলেন এবং পাঁচ বছর বয়স থেকেই মনীরামের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। তাদের কাছে চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। তাই সঠিক চিকিৎসার অভাবে মনীরামের 9 বছর বয়সেই শ্রবণশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তবে তিনি সাধারণ শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা ছিলেন। এই প্রতিবন্ধকতার পরেও তিনি নিরলসভাবে পড়াশোনা করতেন।

কিন্তু তার গ্রামে একটিও স্কুল ছিলনা। তবে মনীরাম, পড়ার প্রতি এতটাই আগ্রহী ছিল যে তিনি প্রতিদিন 5 কিলোমিটার পথ হেঁটে গ্রামের বাইরে একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যেতেন। এরপরে তিনি দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় পঞ্চম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অর্জন করেছিলেন। এরপর মনীরামের বাবা মনীরাম কে নিয়ে অফিসের একজন কর্মকর্তার কাছে যায় এবং তাকে বলে যে তার ছেলে মাধ্যমিক পাস করেছে।

এবার আপনার উচিত তাকে একটা পিয়নের চাকরি দেওয়া। কিন্তু মনীরাম কানে শুনতে না পাওয়ার কারনে সেই চাকরিটি পাননি। এরপর তিনি তার বাবাকে দুঃখে দেখে বলেছিলেন যে, ‘বাবা তুমি চিন্তা করোনা আমি একদিন অফিসার হয়ে উঠবই।’ তিনি তাঁর কথা রেখেওছিলেন। এরপরে মনীরাম পড়াশোনা করার জন্য গ্রামের বাইরে যান। তিনি আলওয়ার জেলার একটি কলেজে ভর্তি হন।

কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি রাজস্থান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে তিনি একটি কেরানির চাকরি পেয়েছিলেন। তারপরে তিনি নেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং তাতে সাফল্যও পেয়েছিলেন। এরপরে তিনি ক্লার্কের চাকরি ছেড়ে লেকচারার হয়ে যান।

এরপরে তিনি পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেন। পিএইচডি করার পরে মনীরামের একটি মাত্র লক্ষ্য ছিল, তা হল ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। তিনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে, কানে শোনার ক্ষমতা না থাকার জন্য তাকে টেলিগ্রাফ একাউন্টের মত ছোট পোস্টের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাই তিনি তার চিকিৎসা করার জন্য ডাক্তারের কাছে যান।

তখন সেই ডাক্তার তাকে বলে যে, তার শ্রবণশক্তি আবার ফিরে আসবে, তবে অপারেশনের জন্য 7.5 লক্ষ টাকা লাগবে। এরপরে তিনি চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে নিজের অপারেশন করিয়েছিলেন। এরপর মনীরামের শ্রবণ শক্তি ফিরে আসে।

এরপর 2009 সালে তিনি আবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন এবং পাসও করেন। শেষ পর্যন্ত মনীরাম তার লক্ষ্য অর্জন করে একজন IAS অফিসার হয়ে ওঠেন। মনীরাম শর্মার এই গল্প প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মনে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে, যারা মনে করেন তারা জীবনে কিছু করতে পারবেন না।।

About Web Desk

Check Also

চোখে দেখতে পায় না,রেলওয়ে চাকরি দেবেনা বলে না করে দিয়েছিল,আজ নিজের চেষ্টায়, কঠোর পরিশ্রমে ভারতের প্রথম অন্ধ IAS অফিসার…… প্রাঞ্জল

IAS প্রাঞ্জল পাটিল এর success story: চোখ আমাদের শরীরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যে অন্ধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *