Breaking News

দুবেলা পেটপুরে খাবার জোটেনি, গরীব ট্যাক্সিচালকের ছেলে অধিক পরিশ্রম করে IAS অফিসার

বলা হয় যে, ‘আপনার সংগ্রাম যত বেশি হবে, আপনি তত বেশি সফলতা পাবেন।’ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার জীবনযাত্রায় সফল হওয়ার জন্য কিছু লড়াই করতে হয়। তবে কিছু লোকের কাছে এই চ্যালেঞ্জগুলি এমন ভাবে আসে যে, তারা সেগুলির ভয়ে প্রায়শই হাল ছেড়ে দেয়। তবে এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

আমরা যা ভাবি তার সবটাই আমরা করতে পারি। এমনই একটি উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন, মহারাষ্ট্রের একটি ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দা আজহারউদ্দিন কাজী। যিনি চরম দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্যে পড়াশোনা করে, IAS অফিসার হয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। আর এই কারনেই আজ তিনি দরিদ্র ও দুর্বল পটভূমি থেকে আসা সমস্ত ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী দের কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি খুব দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেছিলেন। তার বাবা একজন সাধারন ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন এবং তার বাবা নিজেই পুরো বাড়ির খরচ চালাতেন। আর তার মা একজন গৃহিনী ছিলেন, তবে তিনি পড়তে এবং লিখতে খুব ভালোবাসতেন। তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে করে নিয়েছিলেন, তাই তার পড়াশোনা শেষ করা হয়নি।

তবে তিনি তার বাচ্চাদের পড়তে ও লিখতে খুব উৎসাহ দিতেন। তাদের বাড়ির আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে, তার মা তাদেরকে একটি সাধারন সরকারি হিন্দি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। আজহারউদ্দিনের প্রাথমিক পড়াশোনাও এই স্কুল থেকেই শেষ হয়েছিল। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন যে, তার টিউশনে যাওয়ার জন্য কোনো টাকা ছিল না, তাই তিনি তার মার কাছেই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন।

এর পরে, তিনি স্নাতক পাস হওয়ার সাথে সাথেই একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করা শুরু করেন। তবুও তার বাড়ির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। তাই তিনি সেই সময়, দিল্লি থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আসলে, তিনি একটি অনুষ্ঠানে একজন IPS অফিসারের সাথে দেখা করেছিলেন, যা তার ওপর খুব প্রভাব ফেলেছিল এবং এই জন্যই তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার মন স্থির করেছিলেন।

তারপরে তিনি কোনোভাবে টিকিটের ব্যবস্থা করে, ট্রেনে করে দিল্লি পৌঁছলেন এবং সেখানে গিয়ে তিনি একটি কোচিং ক্লাসে ভর্তি হলেন, যেখানে ইউপিএসসিতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে কোচিং দেয়া হতো। 2010 সালে, তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে ব্যর্থ হন। এরপর 2011 সালে, তিনি আবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেবারও তিনি ব্যর্থ হন। পরপর দুবার ব্যর্থ হওয়ার কারণে, তিনি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, সিভিল সার্ভিসের ক্ষেত্রটি তার জন্যে নয়। এরপরে তিনি কিছু কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপরে তিনি একটি সরকারি ব্যাংকের চাকরি পান, যেখানে তিনি টানা সাত বছর চাকরি করেছিলেন। এর ফলে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটে এবং ভাইদের পড়াশোনাও সম্পন্ন হয়।

আজহারউদ্দিনের চাকরি বেশ ভালোই চলছিল কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি ছিল না। তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার জন্য আরো একবার চেষ্টা করতে চেয়ে ছিলেন। তাই তিনি চাকরির পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে তিনি ঠিক করে প্রস্তুতি নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, তিনি যে কোনও উপায়েই তার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন।

তিনি আবারও ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য দিল্লিতে পৌঁছলেন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করলেন। প্রায় এক বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পরে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবারও তিনি ইন্টারভিউতে নির্বাচিত হতে পারেন নি। পরের বছর 2019 সালে, অবশেষে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 2020 ব্যাচের IAS অফিসার হন।

আজহারউদ্দিন কঠোর লড়াইয়ের পরও এই পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। তিনি অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদেরকে বলেছিলেন যে, কোনো শিক্ষার্থীর পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেছেন যে, নিজের সমস্যার ভয়ে বসে থাকলে হবে না। লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুরো মন দিয়ে চেষ্টা করতে হবে, তবেই সফলতা আসবে।।

About Web Desk

Check Also

25 বছর ধরে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন অক্ষয় কুমার, এবার বেরিয়ে আসলো আসল তথ্য, বিস্তারিত জেনে নিন…

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার চমৎকার অভিনয়ের জন্য পরিচিত। অক্ষয় প্রতিটি চরিত্রে ভালো অভিনয় করে এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *