Breaking News

মনদীপের সফলতার গল্প সকল নারীকে অনুপ্রাণিত করে, যে নারী ইচ্ছা করলে শুধু দেশে নয় বিদেশেও তাদের নাম উজ্জ্বল করতে পারে…

শুধু ভারতেই নয় বিদেশেও প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর প্রাধান্য রয়েছে। ভারতীয় মহিলারা তাদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন প্রতিপদে এবং বড় বড় জায়গায় কাজ করছেন। এমনই একজন ভারতীয় মহিলা হলেন মনদীপ কর। যিনি নিউজিল্যান্ড পুলিশের অংশ হয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন। আগে তিনি ট্যাক্সি চালাতেন। আসুন জেনেনি ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে নিউজিল্যান্ডের পুলিশকর্মী হওয়া পর্যন্ত তার পুরো যাত্রাটি কেমন ছিল। পাঞ্জাবের কমলো গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মনদীপ তার জন্মের পরপরই চণ্ডীগড়ে চলে আসেন।

সেখানেই তাঁর বিয়ে হয় এবং 1996 সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি পড়াশোনা শেষ করেন এবং তারপরে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন ‌ নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তিনি পেট্রোল পাম্পে কাজ শুরু করেন যাতে তিনি তার পরিবারের খরচ চালাতে পারেন। এরপরে সে সেলসগার্ল হিসেবেও কাজ করতেন। তিনি ঘরে ঘরে জিনিস বিক্রি করতেন। যদিও সে ইংরেজিতে খুব ভাল ছিল না তবে তিনি হাল ছাড়েননি এবং কঠোর পরিশ্রম থেকে পিছপা হননি।

1999 সালে বাড়ির খরচ চালানোর জন্য সে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তারপরেই তার জীবনে এক নতুন মোড় আসে। যখন তিনি ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন তখন তিনি ওয়াইএমসিএ মহিলা হোস্টেলে থাকতেন। সেখানে নাইট শিফট চলাকালীন তিনি জন পেগলার নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সান্নিধ্যে আসেন। সেই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীকে দেখে তার মনে পুলিশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে।

এভাবে মনদীপ এবং জন পেগলারের পিতা ও কন্যার সম্পর্ক হয়ে ওঠে। মনদীপ যখনই ক্লান্ত থাকতেন তখন সে জনের সাথে কথা বলতেন তাঁর মন হালকা করার জন্য। জন তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং মনদীপকে পুলিশকর্মীদের গল্প বলতেন। এই গল্পগুলি মনদীপের ওপর দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছিল। তারপর একদিন সে জন কে বলে সেও পুলিশ পরিষেবায় যোগদান করতে চায়। জন এবং তার পুরো পরিবার তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছিল।

মনদীপ পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। যার জন্য তিনি তার ওজন 20 কেজি কমিয়ে ফেলে। তারপর 2004 সালে পুলিশ পরিষেবার কাজে যোগদান করেন তিনি। মনদীপ প্রথমে সিনিয়র কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তবে এখন তিনি সার্জেন্ট হয়েছেন। বিশেষ বিষয়টি হলো মনদীপ হলের প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি বিদেশে এই অবস্থান পেয়েছেন। মনদীপের গল্প সমস্ত মহিলাকে অনুপ্রাণিত করে যে তারা চাইলে কেবল দেশেই নয় বিদেশেও তাদের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।।

About Web Desk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *