Breaking News

মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবা-মার চিন্তা, মেয়ে IAS পাশ করে , বাবা মায়ের চিন্তা দূর করলেন

বেশিরভাগ বাড়িতেই, মেয়েরা 18 বছর বয়সে পৌঁছানোর পরেই তাদের বিয়ের পরিকল্পনা শুরু করে দেওয়া হয়। বাবা-মা এত তাড়াতাড়ি তাদের বিয়ে দিয়ে দেয় যে, তাদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা গেলেও উচ্চশিক্ষা আর সম্ভব হয় না। এই বাল্যবিবাহের কারণে তাদের সব স্বপ্ন চাপা পড়ে যায়। খুব কম সংখ্যক মেয়েই আছে, যারা তাদের নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আজকে আমরা আপনাদেরকে এমনই একজন মেয়ের কথা বলব।

তিনি হলেন নিধি সিওয়াচ। তাকেও অন্য সব মেয়েদের মতো বিয়ের জন্য বাধ্য করা হয়। নিধি যখন ইউপিএসসি পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হতে থাকে, তখন তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। কিন্তু IAS অফিসার হওয়ার জেদেই নিধি তার বাবা-মার কাছে শেষ সুযোগ চেয়েছিলেন। অনেক অনুরোধের পরে, তিনি একটি সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তিনি একজন সফল IAS হয়েছিলেন। তিনি হরিয়ানার গুরগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

তার বাবা গুরগ্রামে একটি ছোট মুদির দোকান চালাতেন। তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা এই গুরুগ্রাম থেকেই করেছিলেন। এরপরে তিনি হরিয়ানার একটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এর পরে তিনি হায়দ্রাবাদের একটি সংস্থায় কাজ করা শুরু করেন। এই সংস্থায় তিনি টানা দু’বছর কাজ করেন। কিন্তু তিনি সমাজের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। তাই এই চাকরিটা তিনি ছেড়ে দেন।

এর পরে তিনি SSB -র একটি ইন্টারভিউ দেন। সেই ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি নিধিকে IAS অফিসার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তারপরই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিধির বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না, তাই সে কোনো কোচিং না নিয়ে স্ব-অধ্যায়ন করা শুরু করেছিলেন। নিধি যখন প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দেয়, তখন সেই পরীক্ষায় তিনি সফল হতে পারেননি।

এমনকি, দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টাতেও তিনি ব্যর্থ হন। এরপর আবার তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন এবং এই সময়েই তার বাবা-মা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেছিলেন। তবে নিধি কোনও পরিস্থিতিতেই তার স্বপ্নকে অসম্পূর্ণ রাখতে চায়নি। তাই তিনি তার বাবার কাছে একটি শেষ সুযোগের দাবি করেছিলেন। তখন নিধি ঘরে বসে দিনরাত পড়াশোনা করা শুরু করেন। এইসময় তিনি 6 মাস নিজের ঘর থেকে বের হয়নি।

এই 6 মাসের কঠোর পরিশ্রমই তাকে সফল করেছিল। তিনি 2008 সালে তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায় 83 তম স্থান অর্জন করে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। অবশেষে তার IAS অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হল। নিধি বলেছেন যে, ‘আমার বাবা-মা আমাকে সমর্থন করেছে বলেই আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম’। এছাড়াও তিনি বলেছেন যে, প্রত্যেক বাবা-মায়েরই তার মেয়েদেরকে পূর্ণ সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পারে।।

About Web Desk

Check Also

দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন ছেলে, বাবার চোখে জল নিয়ে শেষবারের মতো স্যালুট জানালেন ছেলেকে…

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে অবস্থিত ত্রিশূল পর্বতে পর্বতারোহণ অভিযানের সময় নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রজনীকান্ত যাদব একটি হিমবাহের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *