Breaking News

অস্ট্রেলিয়ার একটি অভিনব প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কেজি আবর্জনাকে সমুদ্রে যাওয়ার থেকে বাধা দেওয়া যায়।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশ্বেরও বিকাশ ঘটেছে। আজ বিশ্বের প্রতিটি ছোট বড় কাজের জন্য এমন নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা আমরা কখনও ভাবিওনি। এখন এক নিমিষের মধ্যেই বড় বড় সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা যায়। বিশ্বের বিকাশ সাধন হলেও এমন একটি সমস্যা আজও রয়েছে যার সমাধান এখনো পর্যন্ত করা যায়নি। এবং দিন দিন সেই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর সেটি হল মানুষের তৈরি বর্জ্য পদার্থ। শুনতে হয়তো সমস্যাটি বড় বলে মনে হয় না, তবে বর্তমানে এটি একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বর্জ্যের কারণেই একদিন আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এই বর্জ্যের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে, এগুলি এখন সমুদ্রগুলিতেও পৌঁছাতে শুরু করে দিয়েছে। সমুদ্রের কাছে পৌঁছে যাওয়া বর্জ্য সত্যিই পুরো বিশ্বের কাছে একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্যই অস্ট্রেলিয়া একটি নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। সমুদ্রে পাওয়া আবর্জনার পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন, প্রায় 5.25 ট্রিলিয়ন ছোট ছোট প্লাস্টিকের টুকরো মহাসাগর থেকে পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রতিবছর প্রায় 4.6 ট্রিলিয়ন সিগারেটের অবশিষ্ট টুকরো সমুদ্রে পাওয়া যায়। এরকম চলতে থাকলে, ধীরে ধীরে মহাসাগরগুলি পুরোপুরিভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

যদিও আমরা আপনাদেরকে যে পরিসংখ্যান বলেছি, তা খুবই কম পরিসংখ্যান। বাস্তবে সমুদ্রের অবস্থা এর থেকেও খারাপ। এই কারণেই এটি সারা বিশ্বের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি ছোট্ট শহর কুইনানা সমগ্র বিশ্বকে বজ্র ব্যবস্থাপনার এমন একটি শক্তিশালী পদ্ধতি দেখিয়েছে, যা পুরো বিশ্ব গ্রহণও করেছে এবং আজ সেই জন্যেই এই শহরটি বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

এই শহরে দুটি বড় ড্রেন রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে দিয়ে শহরের বেশিরভাগ জল সমুদ্রে চলে যায়। এর কারণে সমুদ্র প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হত। কারণ, রাস্তাঘাটের জলের সাথে বিভিন্ন বজ্র পদার্থ ড্রেনে যেত এবং ড্রেনগুলি থেকে সেই বর্জ্য পদার্থ সমুদ্রে গিয়ে জলকে দূষিত করে দিত। এরপর এই শহরের প্রশাসন একটি উপায় ভেবেছিল যে, যদি ড্রেনগুলিকে জাল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে বর্জ্যপদার্থ আর সমুদ্রে গিয়ে পড়বে না এবং সমুদ্রও পরিষ্কার থাকবে।

তারপর 2018 সালের মার্চ মাসে এই ধারণাটি সম্পাদন করা হয়। এই ধারণা সম্পাদন করে তারা 3 মাস পরে যে ফলাফল পেয়েছিল, তা সত্যিই কল্পনার বাইরে ছিল। 3 মাসে প্রায় 370 কেজি আবর্জনা উদ্ধার করা হয়েছিল, যা সমুদ্রে যেতে বাধা পেয়েছিল। যখন এই শহরের প্রশাসনের গৃহীত এই পদক্ষেপটি সফল হল, তখন তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পদ্ধতিকে শেয়ার করেছিলেন।

যাতে সবাই এটি গ্রহণ করে সমুদ্র পরিস্কার করার অভিযানে তাদের সাথে যোগ দিতে পারে। তাদের এই পোস্টটি প্রায় 25 মিলিয়নেরও বেশি লোক পছন্দ করেছিলেন। সকলেই তাদের কাজের খুব প্রশংসা করেছিলেন। আশা করা যায় যে, প্রতিটি শহর এবং দেশ এই কুইনানা শহরের উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলি একটি পরিষ্কার পরিবেশ পেতে পারে।।

About Web Desk

Check Also

পুরোপুরি ষোলোয়ানা বাঙালিয়ানা ভাবে গুরমিত চৌধুরী তৃতীয়বার বিয়ে করলেন দেবিনা ব্যানার্জির সাথে, ভাইরাল ছবি…

বিখ্যাত অভিনেতা গুরমিত চৌধুরী এবং দেবিনা ব্যানার্জিকে অন্যতম সুন্দর দম্পতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *