Breaking News

শহরের আইটি সেক্টরে চাকরি ছেড়ে গ্রাম প্রধান হন মেয়েটি, গ্রামের জন্য যা করল প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা গ্রাম

সাধারণত গ্রামের যুবকরা শহরে যান এবং ভালো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এবং তারা মনে করেন যে গ্রামে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। এই কারণেই গ্রামগুলি এখনো পিছিয়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত, কারণ বেশিরভাগ যুবকরা তাদের দায়িত্ব অনুধাবন করে না এবং তাদের গ্রামের জন্য কিছুই করেনা। তবে বিপরীতে, রাজস্থানের কন্যা ছবি রাজাওয়াত তার প্রশংসনীয় কাজের মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত যুবকদের সামনে একটি অনন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে নিজেকে স্থাপন করেছেন।

রাজস্থানের জয়পুর থেকে 60 কিলোমিটার দূরে সোডা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই রাজওয়াত হলেন একজন সাধারন ভারতীয় মহিলা। কিন্তু তিনি কখনও ভাবেননি যে, এমন একদিন আসবে যখন তার জীবনের সাধারন জীবনযাত্রার চিত্র পুরো দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে। ছবি রাজাওয়াত হলেন দেশের কনিষ্ঠ এবং একমাত্র এমবিএ পাস করা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। এছাড়াও তিনি 2013 সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্টিত ভারতীয় মহিলা ব্যাংকের পরিচালকও।

টংক জেলার সোডা গ্রামের বাসিন্দা ছবি রাজাওয়াত, তিনি তার কাজের জন্য যুবকদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। কারণ তিনি তার আইটি সেক্টরের একটি দুর্দান্ত কাজ রেখে, শহরের ঝলমলে জীবন ছেড়ে, ফিরে এসেছিলেন গ্রামের মাটিতে। তারপর তিনি তাঁর সোডা গ্রামে এসে সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হয়ে ওঠেন এবং এখন সে গ্রামের সকল প্রয়োজন ও সুবিধার্থে কাজ করছেন। ছবি তার প্রাথমিক পড়াশোনা অন্ধপ্রদেশের ঋষি ভ্যালি স্কুল তথা আজমিরের মেয়ো কলেজ গার্লস স্কুলে শেষ করেছিলেন।

তারপর তিনি দিল্লি লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। স্নাতক পাশ করার পরে তিনি পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মডার্ন ম্যানেজমেন্ট এ পড়া সম্পূর্ণ করে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। বড় বড় কোম্পানির চাকরি ছেড়ে এসে তিনি নিজের গ্রামের প্রচারের জন্য কাজ করেছিলেন। পুনে থেকে পড়াশোনা করে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারপর শহরে থাকাকালীন তিনি টাইমস অফ ইন্ডিয়া, কার্লসন গ্রপ অফ হোটেলস এবং ভারতী এয়ারটেল ইত্যাদির মতো অনেক বড় সংস্থাতে কাজ করেও তিনি মনের সন্তুষ্টি করতে পারেননি।

কারণ, তিনি সবসময়ই তার গ্রাম এবং দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। ছবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি মানুষের হয়ে কাজ করবেন এবং তার গ্রাম ও দেশের পরিবর্তন আনবেন। এর পরেই, তিনি চাকরি ছেড়ে জয়পুর থেকে 60 কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। তারপর 4 ফেব্রুয়ারী 2011 সালে ছবি তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে 1200 ভোটে পরাজিত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর ছবি বলেছিলেন যে, ‘আমি গ্রামে সেবা করতে এসেছি।’

সোডা গ্রামের প্রধান হিসেবে তিনি গ্রামের জন্য অনেক বড় বড় কাজ করেছিলেন এবং অনেক সমস্যার সমাধানও করেছিলেন। তিনি গ্রামে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় বৃষ্টির জলের সংগ্রহ, প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার সুবিধা, কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ এবং 24 ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজও করেছিলেন। ছবি রাজাওয়াতের সোডা গ্রামের সারপঞ্চ হওয়ার আগে গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এই গ্রামটি রাজস্থানের প্রত্যন্ত কোণে অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রায়শই মৌলিক সুবিধার অভাব দেখা যেত।

সেখানকার লোকেরা মাটি দ্বারা নির্মিত বাড়িতে বসবাস করত এবং বিদ্যুত এখানে ছিল না কারণ এখানে বেশির ভাগই সব দরিদ্র ছিল। এই গ্রামে শিক্ষার স্তরটি খুবই কম ছিল অর্থাৎ 50 শতাংশেরও কম ছিল। এছাড়া দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাও ছিল। তিনি গ্রামের শিক্ষাস্তর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তিনি গ্রামের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। তিনি শিশুশ্রমের বিরুদ্ধেও কাজ করেছিলেন। ছবি স্বপ্ন দেখেছিলেন যে 2020 সাল নাগাদ তার গ্রামের প্রত্যেকটি শিশু পড়াশোনা করবে এবং শিক্ষার স্তরটি 100% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

তিনি গ্রামের চূড়ান্ত উন্নয়ন করতে চেয়ে ছিলেন তাই তিনি সোডা গ্রামে মদ এবং যৌতুক প্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন। ছবি ও তার সমস্ত দল গ্রামের সরকারি স্কুল এবং হাসপাতালের অবস্থার উন্নতির জন্য একত্র হয়ে কাজ করেছিলেন। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ সোডা ভিলেজ আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘ অর্থাৎ দরিদ্র বিশ্ব সম্মেলনে ছবি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তার মনের কথা জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, ভারত যদি এত ধীর গতিতে অব্যাহত থেকে অগ্রগতি লাভ করে তাহলে কি আমরা এভাবে সফল হব?

তিনি বলেছিলেন গতবছর আমি নিজে এবং গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে, বাহ্যিক কোনও সহায়তা না নিয়েই আমাদের গ্রামে অনেকগুলি নতুন পরিবর্তন করেছি। আমরা কোনও এনজিও, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা ছাড়াই এটা করেছি। ছবি গ্রামবাসীদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতেন। তিনি কৃষকের বাচ্চাদের সাথে খেলে বড় হয়েছেন, তাই তিনি তাঁর গ্রামের মানুষের কাছে বিশেষ। তিনি গ্রামবাসীদের সাথে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বসে তাদের সমস্যাগুলো জানতেন এবং তারপরে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করার কাজ করতেন।

ছবি বলেছেন যে ‘আমার দাদা ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিংহও এক টানা তিনবার সোডা গ্রাম থেকে প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনিও চেয়ে ছিলেন যে আমিও যেন তার পথ অনুসরণ করে চলি।’ তিনি চান যে ভারতের প্রতিটি তরুণ প্রজন্ম যেন গ্রামের প্রতি তাদের দায়িত্ব বুঝে এবং গ্রামের জন্যই কাজ করে। ছবি কোনো সেলিব্রেটি নয় তিনি একজন সাধারন সংবেদনশীল মহিলা যিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাকে মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। এখন আশা করা যায় যে প্রতিটি গ্রাম থেকেই নারীশক্তির এমন একটি নতুন চিত্র ফুটে উঠবে।।

About Web Desk

Check Also

বিস্ময়কর ঘটনা: ৪ হাত-পা ওয়ালা শিশু জন্ম নিতেই গ্রামে ঘটে গেলো এই ঘটনা!

প্রকৃতির এক অনন্য রূপ দেখা গেলো সোমবার বিহারের কাটিহার সদর হাসপাতালে। যেখানে চার হাত-পা বিশিষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published.