Breaking News

মাত্র 200 টাকার ডেলিভারি বয়ের চাকরি করতেন সুনীল, আজ সারাদেশে 15 টি আউটলেট খুলেছে, কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার কোটি টাকা

আমাদের দেশে এখনও অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা পারিবারিক দুরবস্থার কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং কাজে যোগ দিতে হয়। আজ আমরা আপনাকে তেমনই একজন ছেলের কথা বলতে চলেছি যে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে ও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। সেই ছেলেটির নাম সুনীল। সুনীলের বাবা-মা তাকে দশম শ্রেণীর পরে আর পড়াশোনা শেখাতে পারছিলেন না। সেই সময় যদি সুনীল বসে যেত তাহলে হয়তো সে এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতো না।

জীবন কখনো কখনো আমাদের এমন একটি স্থানে এসে দাঁড় করিয়ে দেয় যেখানে আমাদের কেবল দুটি উপায় থাকে হয় আমাদের হাল ছেড়ে দিতে হয় অথবা নিজের সাহস এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। সুনীল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে ক্লান্ত হয়ে বসে না থেকে এগিয়ে যাবে। সুনীল আজ অনেক ছোটখাটো কাজ করে কোটিপতি হয়েছেন। আসুন জেনে নেয়া যাক তার সাফল্যের এই গল্পটি। সুনীল বশিষ্ঠ এর জন্ম দিল্লির মতো একটি বড় শহরে কিন্তু তার পরিবার মধ্যবিত্ত ছিল।

দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও তার পরে তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছিল যে সুনীলকে মাঝেমাঝে কুরিয়ার ডেলিভারি, পিজা ডেলিভারি বয়ের মতন কাজ করতে হয়েছিল। সুনীলের কেক সংস্থাটি আজ ভারত জুড়ে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে এবং তার সংস্থা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। এছাড়াও সুনীল অনেক মহিলাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে সুনীল বলেছিলেন যে তার পরিবারের প্রচুর আর্থিক সংকট রয়েছে।

এই কারণেই তার বাবা মা তাকে দিল্লির একটি সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতে পেরেছিলেন কারণ উচ্চশিক্ষার জন্য তার পিতা-মাতার কাছে বেশি অর্থ ছিল না। তাই তারা সুনীলকে জানিয়ে দিয়েছিল যে যদি সে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তবে নিজের পড়াশোনা নিজেকে চালাতে হবে। তারপর থেকেই সুনীল খুব অল্প বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি কুরিয়ার ডেলিভারি বয়ের কাজ শুরু করে। এই ছোট ছোট কাজ করে সুনীল দিনে 200 থেকে 300 টাকা উপার্জন করতেন‌।

কিন্তু এই অর্থ দিয়ে পড়াশোনা এবং জীবনযাপন দুটো সামাল দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টার পর 1998 সালে সে domino’s পিজ্জা সাথে জড়িত হয়। এখানে সুনীলকে খুব পরিশ্রম করতে হয়েছিল তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। সুনীল domino’s পিজ্জা শপ এর যোগদানের পর অনেক উন্নতি করেছিল। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু আবার এমন পরিস্থিতি এলো যে সুনীলকে তার চাকরী ছেড়ে দিতে হলো। সুনীলের জীবনে এমন একটি মোর এসেছিল যেখানে সে বুঝতে পারছিল না এরপর তার কি করা উচিত।

সেই সময় সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে ব্যবসা করবেন। অনেক চিন্তা ভাবনার পর সে এটাই ঠিক করে যে সে অন্যের জায়গায় কাজ করবেনা এবং তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি রাস্তার পাশে ছোট্ট খাবারের দোকান খুললো। এর জন্য সুনীল কঠোর পরিশ্রম করলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার এই দোকানটি বেশিদিন চলেনি। তার ব্যবসায় এই ব্যাপক ক্ষতির পরেও সুনীল একটি কেকের দোকান খোলার কথা ভাবেন কিন্তু তার কাছে কোনো অর্থ না থাকায় তিনি তার কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে 2007 সালে নয়ডায় “ফ্লাইং কেক” নামে নিজের ব্যবসা শুরু করে।

খুব শীঘ্রই তার তৈরি কেক গুলির চাহিদা বাড়তে থাকে এবং সুনীল ছোট ছোট বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অর্ডার পেতে শুরু করে। ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে সুনীল কেবল অর্ডার দিয়ে কেক তৈরি করা শুরু করলেন যাতে তার তৈরি নতুন এবং টাটকা কেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। সুনীলের কেক ব্যবসার সম্পর্কে বিশেষ যে বিষয়টি ছিল সেটি হলো তার তৈরি কেকের দাম খুব কম ছিল এবং সেইসঙ্গে সুনীল সর্বদা টাটকা এবং ভালো কেক ডেলিভারি করত ঠিক সময়ে।

যে কারণে সুনীলের এই ছোট্ট ব্যবসাটি দ্রুত একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয় এবং এর পরে সুনীল দিল্লিসহ নয়ডা, বেঙ্গালুরু, পুনে এবং বিহারের বিভিন্ন শহরে তার কেক শপ এর নতুন শাখা খুলেছেন। বর্তমানে সুনীলের টার্নওভার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মহামারী কমে গেলে এবং সবকিছু স্বাভাবিক হলে সুনীল তার ব্যবসায় পিজা, বার্গার এবং অনেক ফাস্টফুড এড করবেন কেকের সাথে। এর জন্য সুনীল তার আউটলেট গুলি এমন জায়গায় খুলেছেন যেখানে আরো বেশি লোক এবং সেখানে ফাস্টফুডের চাহিদা বেশি থাকে।

তিনি বলেছিলেন যে তার বাবা মা যদি তাকে অল্প বয়সে পড়াশোনা তে তাদের অর্থ ব্যয় করতে অস্বীকার না করতেন তবে হয়তো আজ তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারতেন না এবং তিনি কঠোর পরিশ্রম এবং অর্থের মূল্য জানতে পারতেন না। সুনীল আরো বলেছেন যে তাকে এখনো অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং সাফল্যের উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে। তাঁর গল্পের মাধ্যমে তিনি লোকেদের দেখিয়েছিলেন যে দারিদ্র ঐশ্বর্য সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দৃঢ় লক্ষ্য এবং কঠোর পরিশ্রম হল সাফল্য অর্জনের মূলমন্ত্র।।

About Web Desk

Check Also

“পুষ্পা” ফিল্মের রক্ত চন্দন এর দাম জানেন কত? বিলুপ্ত এই চন্দন কীভাবে এল ফিল্মের সেটে? জানলে আপনিও চমকে যাবেন

সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে আল্লু আর্জুনের ফিল্ম “পুষ্পা”। এই ফিল্ম রক্ত চন্দনের কাঠ নিয়ে তৈরি। আজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.